চন্দ্রনাথ গুপ্ত :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় নানা ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন করেন কৃষকরা। অথচ সবজি সংরক্ষণের জন্য উপজেলায় কোনো হিমাগার নেই। ফলে কৃষকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কষ্ট করে উৎপাদিত সবজি তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে সেই শাক-সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। না হলে ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাবে।
বর্তমানে টমেটোর চাষের বাজারজাত করণের শেষ সময় চলছে। বাজারে পাইকারি মূল্য প্রকার ভেদে প্রতিকেজি ৫ থেকে ৭ টাকা। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকায়। মজুরি ও পরিবহন খরচ না উঠায় চাষিরা খেত থেকে টমেটো তুলতে চাইছেন না। ফলে খেতেই টমেটো বিনষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মাসখানেক পরই সেই টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শীতকালী শাক-সবজি এক হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি ৮৪০ জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১০৮ হেক্টর জমিতে টমেটো, ১১০ হেক্টরে মরিচ, ৩৮ হেক্টরে শসা এবং ২০ হেক্টর জমিতে খিরা চাষাবাদ হয়েছে। তবে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কেউ কেউ বারো মাসও টমেটো চাষাবাদ করছেন।
দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের সবজি চাষী পরীক্ষিত চন্দ্র রায় ও মনোরঞ্জন রায় বলেন, স্থানীয় বেপারীরা ফুলবাড়ীর পাইকারী সবজি বাজার থেকে স্বল্প দামে কৃষকের শস্য কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে স্থানীয় কৃষকরা লাভবান না হলেও লাভবান হচ্ছে ওইসব সবজি বেপারীরা। কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে এখানে শুধুমাত্র শাক-সবজি সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি সংরক্ষণ করে লাভবান হতেন।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বুজরুক সমশেরনগর গ্রামের শাক-সবজি চাষি রুবেল বাবু ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে ফসলের মাঠে কৃষকের অনেক টমেটো রয়ে গেছে। বাজারে দাম কমে গেছে। ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার মজুরের মজুরি ও পরিবহন ব্যয় না উঠার কারণে মাঠেই কষ্টের ফসল পচে বিনষ্ট হচ্ছে।
ফুলবাড়ী সবজি বাজারের আড়ৎদার অজয় দত্ত ও মিহির দত্ত বলেন, গত একমাস ধরে আড়তে টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে কেজি ৭ থেকে ৮ টাকায়। গত সপ্তাহ থেকে বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৭ টাকায়। বাজারে টমেটোর দাম এতটাই কমে গেছে যার কারণে কৃষকরা ক্ষেতের টমেটো তুলতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। তবে যারা আগাম টমেটো চাষ করেছিলেন তারা লাভবান হয়েছেন।
উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল বাতেন ও মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আগে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা টমেটো নিতে খেতে আসলেও এখন কোন পাইকার আসছেন না। আগের মতো টমেটোর চাহিদা এখন নেই। টমেটো উত্তোলন, গাড়িভাড়া দিয়ে বাজারে নিয়ে ৫-৬ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেখা যায় বিক্রির চেয়ে খরচ বেশি। তাই আর খেতে থাকা টমেটো তুলছে না, এতে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গাছের টমেটো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, এটি একটি পচনশীল ফসল, তাছাড়া এখন অন্যান্য সবজিও বাজারে থাকায় এবং এবছর উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা দাম পাচ্ছে না। তবে যারা আগাম টমেটো চাষ করেছেন তারা আশানরূপ লাভ করেছেন। তবে ফুলবাড়ীতে একটি শাক-সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা গেলে শুধুমাত্র ফুলবাড়ী নয়, এ অঞ্চলের অন্যান্য উপজেলার কৃষকরাও এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে সংরক্ষণের হিমাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ শাক-সবজি
মার্চ ২১, ২০২৫


































