রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সনাতন ধর্মালম্বীদের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বউমেলা। মেলায় ক্রেতা শুধুই নারী। মেলায় প্রবেশের থাকে না পুরুষদের।
প্রতিবছর লক্ষ্মীপূজার পরদিন ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপ চত্বরে ঐতিহ্যবাহী বউমেলা মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার আগের দিন শহরজুড়ে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে প্রচার প্রচারনা চালানো হয় মেলাকে ঘিরে। মেলার দিন সকাল থেকেই শুরু হয় মেলা চত্বর সাজসজ্জা। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই আসতে শুরু করেন মেলার ক্রেতা ও দর্শনার্থী শিশু-কিশোরী-তরুণীসহ সব বয়সী নারীরা।
সরেজমিনে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই ত্রিপল ও শামিয়ানা টানিয়ে নিজ নিজ পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা। নারীদের প্রসাধন সামগ্রীই মেলার প্রধান উপজীব্য হলেও ছোটদের খেলনা সামগ্রী, হস্তশিল্পের পণ্যসামগ্রী, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ রকমারি মুখরোচক খাবারও ছিল। বিকেল গড়িয়ে এলে সেখানে ভিড় জমে বিভিন্ন বয়সী নারী ও শিশুদের। মেলার আশপাশে পুরুষদের ভিড় জমলেও তাদের মেলায় ঢোকার কোনো অনুমতি ছিল না। বিক্রেতাদের মধ্যে নারীদের পাশাপাশি পুরুষ থাকলেও বিভিন্ন বয়সী নারী ও শিশু, কিশোরী ও তরুণীদের নিয়েই জমে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী এই বউমেলা।
মেলায় কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ তমা রানী, কলেজ শিক্ষার্থী পিংকি রায়সহ মেলায় আগত একাধিক নারী বলেন, ল²ী পূজা উপলক্ষে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী এই বউমেলা হয়ে থাকে। মেলায় শুধু নারীরাই ক্রেতা হওয়ায় নির্বিঘেœ মেলায় অবস্থান করাসহ সাচ্ছন্দে কেনাকাটা করা যায়। তবে মেলায় আসলে খুব আনন্দ লাগে। অনেক পরিচিত নারী ও আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা স্বাক্ষাত হয়। জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যায়। বউমেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বহু আত্মীয়-স্বজন বাড়ীতে আসেন। সবাই মিলে মেলায় ঘোরাঘুরি আর আড্ডা দেওয়া যায়, মেলার জন্যই এই আনন্দ উপভোগ করা যায়।
মেলায় আসা নববধূ চম্পা রানী বলেন, নতুন বিয়ে হয়েছে। বরসহ (স্বামী) এসেছিলেন বউমেলায়। কিন্তু মেলায় পুরুষের প্রবেশ নিষেধ থাকায় বরকে মেলার বাইরে ছেড়ে আসতে হয়েছে। মেলার এসে খুব ভালো লেগেছে।
বউমেলার বাইরে গেটে দাঁড়িয়ে থাকা বাপ্পি দাস, রাহুল গুপ্ত আকাশস বেশ কয়েকজন বলেন, মেলাতে পুরুষের প্রবেশ নিষেধ থাকে জানার পরও শুধুমাত্র নিজেদের বউ, বাচ্চাদের আনন্দের জন্য তাদের নিয়ে মেলায় আসতে হয়। বউ বাচ্চারা মেলার ভেতরে ঘোরাঘুরিসহ কেনাকাটা করছে। তাদের কাজ শেষ হলেই তাদেরকে নিয়ে বাড়ী ফিরতে হবে, তাই তাদের জন্য অপেক্ষায় মেলার বাইরে। মেলাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই নিয়ম চালু থাকায় এটিও একটি ঐতিহ্য।
প্রসাধন সামগ্রী বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, বউমেলার আগত ক্রেতা সকলেই নারী হওয়ায় মেলায় প্রসাধন সামগ্রীই বেশি বিক্রি হয়। নারীদের প্রসাধনীর পাশাপাশি শিশুদের খেলনা সামগ্রীও বেচাবিক্রি ভালো হয়।
মেলার আয়োজক সুজাপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অশেষ রঞ্জন দাস ও সাধারণ সম্পাদক গৌ চন্দ্র সরকার বলেন, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর পূজার পরদিন বউমেলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি তৎকালীন জমিদার বিমল বাবু প্রায় ৬৬ বছর পূবে শুরু করেন। জমিদার স্বপরিবারে ভারতে চলে গেলেও ঐতিহ্যবাহী বউমেলাটি সুজাপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে প্রতি বছর হয়ে আসছে। মেলাটি শুধু নারীদের জন্যই। তাই মেলায় পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ থাকে। বাড়ীর বউয়েরা সবচেয়ে বেশি এই মেলায় আসেন বলে এই মেলার নাম বউমেলা মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন খৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী বউমেলায় ক্রেতা শুধুই নারী, মেলায় ঢুকতে পারেন না পুরুষরা
অক্টোবর ৭, ২০২৫






























