অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আলু উত্তোলনের মৌসুম শুরম্নর সময় উপজেলার আলু চাষিরা তাদের উৎপাদিত আলুর ভালো দাম পাওয়ায় খেতেই নগদ টাকায় পাইকার ব্যবসায়ীদের বিক্রি দিয়েছেন। হয়রানীসহ নানা কারণে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ না করে ঝামেলামুক্তভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন চাষিরা।
এদিকে আলু উত্তোলন শেষ হলেও ফুলবাড়ীর একমাত্র ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে এ পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতার ৭৫ ভাগ আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে, ২৫ ভাগ জায়গা এখনও খালি পড়ে আছে।
হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছেন, হিমাগারে সংরক্ষিত আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকরা নির্দিষ্ট একটি সময়ে উত্তোলন করে তা বাজারজাত করে থাকেন। হিমাগারগুলো কাঙ্খিত আলু না পেলে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হবে। এতে অসাধু চক্র আলুর সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছে মতো দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এ বছর ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন। আশানুরূপ দাম ও চাহিদা থাকায় কৃষকরা খেতেই আলু বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ নামের হিমাগার এখনও অনেকটাই ফাঁকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আবুল হাসনাত।
অপরদিকে ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ঈদের বাজার। গত বছরের চেয়ে এবার জিনিসপত্রের দাম বেশি হলেও কেনাকাটা চলছে ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, শহর ও আশপাশ এলাকায় ছোটবড় মিলে প্রায় দুই হাজার, কাপড়, জুতা ও কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। এ বছর বিক্রিও বেশি। ঈদের পূর্বরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে। ক্রেতারা মধ্যরাত অবধি কেনাকাটা করছেন। চাকরিজীবীদের বেতন-বোনাস আর কৃষকের আলু বিক্রির টাকা ঈদের কেনাকাটায় গতি এনেছে।
ফুলবাড়ী শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নজরকাড়া ডিজাইন ও রকমারি পোশাকে দোকানপাট ঝলমল করছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষ নতুন ডিজাইনের ভালো পোশাক কেনার আশায় ছুটে আসছেন উপজেলা শহরের দোকানগুলোতে। উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বুজরম্নজ সমশের নগর (পাঠকপাড়া) গ্রামের আলু চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছিলেন, বেশির ভাগ আলু বিক্রি হয়েছে। ঘরে বস্তায় রাখা আলু বিক্রি করে শহরে এসেছেন। বর্তমানে পাইকারী পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু বিক্রির টাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের ঈদের বায়না নতুন পোষাকসহ আনুসাঙ্গীক কিনতে পৌর শহরের মার্কেটে আসতে হয়েছে।
উপজেলার পলিপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘরে আলু না থাকলে এবার রোজাত না খেয়ে থাকতে হতো, আর ঈদে বাড়ীর স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে জামা-কাপড় কেনার কোনো বুদ্ধি ছিল না। ঘরের আলু বিক্রি করে টাকা নিয়ে ফুলবাড়ী শহরের মার্কেট থেকে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের জামা-কাপড় কিনে নিয়ে যেতে।

































