আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও প্রবল স্রোতের কাছে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভাঙন ধীরে ধীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও জনবসতির দিকে এগিয়ে আসায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় প্রায় ৫৫ মিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গত তিন দিনে একই এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে ভেঙে গেছে। অথচ ওই স্থানেই টানা তিন দিন ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী নয়—এখন প্রয়োজন ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে শহরাবাড়ি এলাকায় যমুনার আকস্মিক ভাঙনে সমতল ভূমিসহ ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তলদেশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পরে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল।
কিন্তু সম্প্রতি যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত শুক্রবার থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে আবারও ভাঙন শুরু হয়। প্রবল স্রোতের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত নদীপাড়ে আঘাত হানায় জিও ব্যাগ দিয়ে সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে এবং নতুন করে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নদীভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলার কাজ অব্যাহত রেখেছে। নদীর মাঝখান থেকে বিশেষ নৌযানে বালু এনে প্রায় ৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও দেড় মিটার ব্যাসের বিশেষ টিউবে ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি বিশেষ টিউব নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে, নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের ভাঙনের মুখোমুখি হতে হয়। তাই তারা সাময়িক নয়, যমুনা নদীর ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
আমন্ত্রণ/এজি
ধুনটে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন, জিও ব্যাগ-টিউবও টিকছে না স্রোতের তোড়ে
জুন ২৩, ২০২৬
































