আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার পূর্বভরণশাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইতিহাসের বৃহত্তম জুমার জামাত। আহলে হক্ক ওলামায়ে কেরামদের অধীনে শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমায় শুক্রবার জুমার নামাজে লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই টুপি-পাঞ্জাবি পরে, হাতে জায়নামাজ নিয়ে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দলে দলে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের ঢলে মূল ময়দান ছাড়িয়ে পূর্বপাশে বিস্তৃতি লাভ করে জুমার জামাত। একই জামাতে শরিক হয়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় মুসল্লিদের মাঝে দেখা যায় গভীর ব্যাকুলতা ও আবেগ।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে ইজতেমা ময়দান পরিণত হয় এক মহাসমাবেশে। এ কারণে ইজতেমার আশপাশের এলাকার মসজিদগুলোতে জুমার জামাতে মুসল্লির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জুমার জামাতে ইমামতি করেন সিরিয়া থেকে আগত মেহমান আলেম মাওলানা আবু হারেসা আল জাহরা।
জুমার নামাজ শেষে ইজতেমা ময়দানের চারদিকে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো মুসল্লিরা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশ থেকে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। আয়োজকরা জানান, শনিবার আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত মুসল্লিদের এই স্রোত চলবে।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা রবিউল ইসলাম রবি বলেন, “ইজতেমা ময়দানে সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন রয়েছেন দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর আম বয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরুব্বিরা তাবলিগের ছয় উসুলের আলোকে দাওয়াতে দ্বীনের গুরুত্ব তুলে ধরে বয়ান করছেন।
আজ শনিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই তিনদিন ব্যাপী ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
আমন্ত্রণ/এজি
ধুনটে ইজতেমায় ইতিহাসের বৃহত্তম জুমার জামাত, লাখো মুসল্লির ইবাদতে মুখর ময়দান
ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
































