মো. আসতারুল আলম, দিনাজপুর :
নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় জোরদার করতে দিনাজপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৬ মে) সকালে দিনাজপুরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) কর্মসূচির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ডায়ালগে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ১৩ জন নারী ও ২৫ জন পুরুষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার তমালিকা পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মোর্শেদ আলী খান এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার গোলাম আজম। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর অমল কুমার দাম।
ডায়ালগে ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচির জেলা পর্যায়ের ব্যবস্থাপক, কমিউনিটি ভলান্টিয়ার (যেমন কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার, সিএসএ ও অ্যাডোলেসেন্ট লিডার) বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণ করা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক জিজেডি কর্মসূচির রিজিওনাল ম্যানেজার মোঃ জাহিদুর রহমান। তিনি তার উপস্থাপনায় ব্র্যাকের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার, নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি এবং সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, সামাজিক চাপ, আইনগত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় সেবার সীমাবদ্ধতা ভুক্তভোগীদের সহায়তায় প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, আস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের দ্রুত সেবার আওতায় আনা এবং নিয়মিত ফলো-আপ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তমালিকা পাল বলেন, “নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা ও ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশ জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি মো. মোর্শেদ আলী খান বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা একটি সামাজিক ব্যাধি। এ সমস্যা সমাধানে ধারাবাহিক সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।”
এ সময় গোলাম আজম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ডায়ালগ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আমন্ত্রণ/এজি
দিনাজপুরে নারী ও কন্যা শিশুর সহিংসতা প্রতিরোধে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত
মে ৬, ২০২৬
































