জিন্নাত হোসেন, দিনাজপুর :
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দিনাজপুর সরকারি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান ভবনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক লুবনা আকতার।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রুবিনা আকতার। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক রুবি আফরোজ এবং নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন বিষয়ে আলোচনা করেন মহিলা পরিষদ জেলা শাখার লিগ্যাল এডভাইজার সাথী দাস।
এছাড়াও মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সরকারী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসান, প্রভাষক মোছা. তাইয়েরুন নাহার, মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সম্মানীয় সদস্য কানিজ রহমান, সহ-সভাপতি অর্চনা অধিকারী, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা পলি প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় আলোচকরা বলেন, সম্প্রতি নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। নারীদের ইতিবাচক অর্জন থাকা সত্তে¡ও আজকে ঘরে-বাহিরে কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ ও সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিনিধি তরুণরা। আর এই তরুণরাই বেছে নিচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়ের পথ। তরুণদের নৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধ বিকাশের জন্য প্রয়োজন সচেতন পদক্ষেপ, যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত, ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা, নারী-পুরুষের সমতার সংস্কৃতি এবং যথোপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ। আজকের নারী তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যতটা অগ্রসর হয়েছে, সমাজ ও রাষ্ট্র এই অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখার জন্য সহায়ক ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি হয়েছে, নারী অর্জন করেছে অনেক কিছু, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর মৌলিক পরিবর্তন না হওয়ায় নারীর মানবাধিকার এখনও ভূলণ্ঠিত। সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নেই, এমনকি নিজের উপার্জিত সম্পদও নারী নিজে ভোগ করতে পারে না। বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরী। এ ধরনের সহিংসতা নির্মূলে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ আন্তরিক উদ্যোগেী হবেন। নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত, মানবিক, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী।
আমন্ত্রণ/এসিজি
দিনাজপুরে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
ডিসেম্বর ৯, ২০২৪
































