বগুড়া ব্যুরো :
বর্ষাকালীন জরুরি রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাচ্ছেন বগুড়ার সংসদ সদস্যরা। তাদেরকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতি সংসদীয় এলাকায় ১০ কোটি টাকা করে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অনুরোধ জানান।
এসময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর সেবাসহ বগুড়ার সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের পিপিআর ২০০৮ আইন সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে অনিয়মকারী ঠিকাদারদের বলয় ভেঙে নতুন ব্যবসায়ীরা কাজ করার সুযোগ পান। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পিপিআর সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জারি হবে। নতুন পিপিআর না আসা পর্যন্ত নতুন কোনো বরাদ্দ এলে দয়া করে টেন্ডারে যাবেন না।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বগুড়া জেলার অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং ১২টি পৌরসভার জন্য ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এগুলো পাস হলে আগামী তিন বছরে বগুড়ার গ্রামীণ অবকাঠামোর চিত্র বদলে যাবে। পাশাপাশি বর্ষাকালীন জরুরি রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতি সংসদীয় এলাকায় ১০ কোটি টাকা করে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বগুড়াকে পৃথক বিভাগ হিসেবে রূপান্তর, ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, সারিয়াকান্দি বাঁধ সুরক্ষা, শেরপুর, বনানী ও মাটিডালী ফ্লাইওভার নির্মাণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১৮০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবির বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো প্রকল্প দায়সারাভাবে বা অবহেলা করে বাস্তবায়ন করা যাবে না। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ার কারণে বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে বগুড়াকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন এবং সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রণ/এজি
জরুরি রাস্তা মেরামত ও সংস্কারে ১০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাচ্ছেন এমপিরা
জুলাই ২৫, ২০২৬
































