গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিবেদক :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের জামায়াত নেতা ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ি নজরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের মূল হোতা রিফাত মন্ডল সৌরভকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নজরুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বুলবুল ইসলাম থানার হল রুমে এক প্রেসব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিফাত মন্ডল সৌরভ নাকাই ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের সামিউল ইসলামের ছেলে এবং নাকাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
প্রেস ব্রিফিংয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ বুলবুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধা পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলার নির্দেশনায় ঘটনার থেকেই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার, এসআই সেলিম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য গোবন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম রিফাত মন্ডল সৌরভের মোবাইল নাম্বর এ তথ্য দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা গাইবান্ধা শহরের নিউ মেরিট কেয়ার কোচিং সেন্টারের আবাসিক ভবনের ১৯নং কক্ষ থেকে মো. রিফাত মন্ডল সৌরভকে (১৬) আটক করে। আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত এই শিশুকে জিজ্ঞাসাবদের একপর্যায়ে সে একাই উক্ত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে মর্মে স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে মো. রিফাত মন্ডল সৌরভ এ দোকানের নিয়মিত ফ্লেক্সিলোড সহ বিকাশ লেনদেনের নিয়মিত কাস্টমার ছিল। এই সুবাধে দোকানে রিফাত মন্ডল সৌরভের ফ্লেক্সিলোডের এক হাজার একশত টাকা বাকী পরেছিল। প্রায় দেড় মাস পূর্বে মো. রিফাত মন্ডল সৌরভ ও তার দুই সহযোগী মিলে নজরুলের দোকান ঘর চুরি করে। এই চুরির ঘটনায় রিফাত মন্ডল সৌরভ স্থানীয় লোকজনের কাছে আটক হলে স্থানীয় লোকজন তাকে মারপিট করে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এরই জের ধরে রিফাত মন্ডল সৌরভ নজরুলকে শায়েস্তা করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। গত ১৬ আগস্ট শনিবার রাত পৌনে ১২ টায় সৌরভ ফোন করে নজরুলকে পাওনা এগারো শ টাকা ফেরত দেয়ার কথা জানায়। নজরুল তাহার দোকান বন্ধ করে বাড়ী ফেরার সময় টাকা নেবে। সে মতে দোকান বন্ধ করে বাড়ী ফোর পথে কানীপাড়া রাস্তার মাথায় পৌছাইলে সেখানে রিফাত মন্ডল সৌরভের সাথে দেখা হয়। তখন তারা দুজনেই কথা বলতে বলতে ঘটনাস্থলে পৌছলে সৌরভ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লোরোফোম মিশানো রুমাল বের করে নজরুলের মুখ চেপে ধরলে নজরুল অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার অজ্ঞান হওয়া নিথর দেহ টেনে রাস্তার পার্শ্বে মো. শহিদুল ইসলামের মোটর ঘরের রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তার কছে থাকা ধারাল ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর নজরুলের কাছে থাকা বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ২টি মোবাইল নিয়ে নেয়। এরপর সে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী জনৈক বাছির উদ্দিনের পুকুরে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি ফেলে দেয় এবং তার শরীর পরিস্কার করে যাওয়ার সময় নজরুলের বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের একটি মোবাইল অনৈক আল আমিনের পুকুরে ফেলে দিয়ে অন্য মোবাইলটি নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মসজিদ মার্কেটের দুরন্ত সাইকেল এন্ড ফার্নিচার উপর তলায় ফেলে রেখে গাইবান্ধার কোটিং সেন্টারে চলে যায়। পরে পুলিশ তাকে গাইবান্ধা শহরের ওই কোচিং সেন্টার থেকে সোমবার ভোরে গ্রেফতার করে।
প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার, এসআই মো. নজরুল ইসলাম, এসআই মো. সেলিম রেজা, এসআই মো. তাহসিনুর রহমান, এসআই মো. আসাদুজ্জামান, এসআই তফিজ উদ্দিন, এএস আই মো. বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নে জবারে অফিসার ইনচার্জ বুলবুল ইসলাম বলেন, তবে পুরোঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এই হত্যার আরো কোন উদ্দেশ্য অথবা আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের শিতলগ্রাম কানিপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে নজরুলের গলা কাটা লাশ বাড়ীর পাশের একটি ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওয়ার্ড জামায়াতের শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি
<div style='text-align: center;'> <h2 style='color: #ff0000; font-size: 16px; margin: 0;'>পুরোনো ক্ষোভের প্রতিশোধ নিতে একাই কিলিং মিশনে অংশ নেয় রিফাত</h2> <h1 style='color: black; margin: 0;'>গোবিন্দগঞ্জের জামায়াত নেতা ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ি নজরুল ইসলাম হত্যাকান্ডে মূল আসমী গ্রেফতার</h1>
আগস্ট ১৮, ২০২৫
































