চন্দ্রনাথ গুপ্ত :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে মাটি দেবে যাওয়ায় খনি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ৪০০ একর এলাকাজুড়ে বিশালাকৃতির জলবাশির লেক। ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে খনির সেই লেক।
বিশালাকৃতির লেকের পাশে পাশে শত শত নানা বয়সী নারী পুরুষ। সবুজ পাড়ে নাগরদোলা এবং পানিতে নৌকা আর স্পিটবোর্ডে ঘুরছেন অনেকে। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ ট্রলার কেউ বা নৌকায় ঘুরছেন। অনেকে পানিতে তলিয়া যাওয়া রাস্তায় ছবি তোলায় উচ্ছ্বাস করছেন।
রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে লেকে বেড়াতে আসা আরমান আলী, পার্বতীপুরের ভবানীপুরের স্কুল শিক্ষক রাধেশ সাহা, নবাবগঞ্জের ঠসার মোড় থেকে আসা বাবু ইসলাম বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বন্ধুদের সাথে নিয়ে এখানে বেড়াতেছেন এই লেকে। লেকের কথা বিভিন্ন জনের মুখে শুনলেও বাস্তবে এসে খুব ভালো লেগেছে তাদের। কারণ এত বড় জলাশয় এই এলাকায় আর কোথাও নেই। নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় ওঠার সুযোগ না থাকায় এখানে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন নি তারা। এজন্য নৌকায় ঘুরেছেন গোটা লেক।
কুল শিক্ষিকা আরজু আরা বলেন, কাজকর্ম নিয়ে দিন কাটে। এবার ঈদের বেশ লম্বা ছুটি পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে ছুটে এসেছেন এই লেকে।
লেকটি সৃষ্টির পর থেকেই স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলাগুলো থেকে বিনোদন পিপাসু মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবে এখানে এসে সময় উপভোগ করেন। দর্শনার্থীদের জন্য ইতোমধ্যেই ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে নৌকা, স্পিডবোট ও প্যাডেল বোট। এগুলো দিয়েই দর্শনার্থীদের লেক ঘোরানো হয়।
দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এই বড়পুকুরিয়া লেকটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এখান থেকে সরকারি বিপুল অংকের রাজস্ব আয় করতে পারবে, তেমনি এলাকার মানুষ বিনোদনের স্থান খুঁজে পাবেন। একই সঙ্গে লেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ, মাছ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজননসহ বিলুপ্ত হওয়া মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। এই মৎস সম্পদ থেকেও সরকার রাজস্ব আয় করতে পারবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ব্যস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ জানান, বিগত সরকারের আমলে ওখানে একটি ভাসমান পাওয়ার প্লান্ট হওয়ার কথা ছিল। সরকার পরিবর্তনের পরে বতমানে বিষয়টি স্থগিত রয়েছে। তবে লেকসহ আশপাশের জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারলে অবশ্যই সরকার রাজস্ব আয় করতে পারবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ঈদ ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি লেক
এপ্রিল ৬, ২০২৫


































