বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন,‘‘কেমন আছেন আপনারা সবাই? আমি প্রথমেই আজকে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই। কারণ, আজকে প্রায় ১৯ বছর পরে আল্লাহ আমাকে আবার তৌফিক দিয়েছেন এই, নিজের ভূমিতে ফিরে আসার। প্রিয় বগুড়াবাসী নিজের ঘরে এসে কী বলব? আসলে আমি নিজেও একটু তাল হারিয়ে ফেলেছি, নিজেও অনেকটা ইমোশনাল হয়ে গিয়েছি।“আমি সেজন্য নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা কিন্তু কি বক্তব্য আমি রাখবো ঠিক আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না। ঘরের মানুষের কাছে তো বলবার কিছু নেই। আছে কিছু ঘরের মানুষের কাছে বলবার?”
তারেক রহমান বলেন, “আল্লাহ চাইতো সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সাথে সাথে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে। আপনাদেরকে সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।“আর চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলা আছে ইনশাল্লাহ সবকিছু যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে। যেহেতু আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না যে অন্য কেউ আমাদেরকে কোনো বিতর্কিত অবস্থান ফেলুক যে বগুড়া বলেই সব পাচ্ছে।“
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
নওগাঁ থেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএনপি প্রধানের গাড়িবহর বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। তখন থেকেই পথে পথে নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই ধারে সমবেত হয়ে তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সেই কারণে তা ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে সাড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময়ে লেগে যায়।
বগুড়া শহরের নিজের নির্বাচনি আসনের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে তারেক রহমান রাত পৌনে ১১টার দিকে আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে পৌঁছান। এসময়ে পুরো সমাবেশস্থল তাকে স্বাগত জানাতে শ্লোগানে সরব হয়ে ওঠে। তিনি মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এই সময়ে মঞ্চে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।
দেড় যুগ পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এই প্রথম বগুড়া আসলেন তারেক রহমান। নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে খালেদা জিয়ার এক শোকসভায় যোগ দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ বগুড়া সফর স্থগিত করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন ছাড়াও ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বগুড়ায় নিজের জন্য এবং অন্যান্য আসনের প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষে ভোট চান।
তারেক রহমান বলেন, ঘরের মানুষ এই যে, আমি এত রাত্রে যে সভা করছি, এই যে রাজনীতি করছি, এ যে কাজ করছি আমার স্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন আমি কিন্তু পারতাম না। ওনার সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি। তিনি বলেন, “আমাকে নিয়ে যাতে আপনারা অহংকার করতে পারেন সেই দোয়া আপনারা করবেন।”
২০০১-২০০৫ সালে বগুড়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন,‘‘ নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে যে বগুড়া সদরসহ সমগ্র জেলায় মানুষের প্রয়োজনে যেই কাজগুলো করা দরকার ছিল আমরা চেষ্টা করেছি সব কাজগুলো কম বেশি করার জন্য হয়তো আমরা ১০০% সাকসেসফুল হইনি। কিন্তু যতটুকু পেরেছি সরকারের আইন কানুন ও রীতিনীতির মধ্য থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমরা চেষ্টা করেছি।
রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান বগুড়া নাজ হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন। শুক্রবার বিকালে সড়কপথে রংপুরে পীরগঞ্জ যাবেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে। পরে রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।
আমন্ত্রণ/এজি
“আমাকে নিয়ে যাতে আপনারা অহংকার করতে পারেন সেই দোয়া করবেন।”-তারেক রহমান
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
































