দৈনিক আমন্ত্রণ ডেস্ক :
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে । দেশটির ১৩টি রাজ্যের মোট ৮৯টি আসনে ভোট হয়েছে গতকাল শুক্রবার। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলেছে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অশান্তি এড়াতে বিভিন্ন কেন্দ্রে নিরাপত্তা আঁটসাঁট করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪ জুন ভোটের গণনা ও ফলঘোষণা হবে। এদিকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভোটারের উপস্থিতি অনেক কম ছিল। এই প্রতিবেদ লেখা পর্যন্ত সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি ।
শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসনসহ (কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার) দেশের মোট ১০২টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।
তবে ভোটের মাঠে প্রতিবন্ধকতা এখন তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশটির প্রায় বেশিরভাগ জায়গাতেই তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অত্যাধিক গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। এই গরম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশনও। অত্যাধিক গরমের কারণে তিন ভোটার এবং এক জন পোলিং এজেন্টের মৃত্যু হয়েছে।
ভোটদানে অনীহা গ্রামবাসীর
উত্তরপ্রদেশের দিখৌলী গ্রামে শুক্রবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ওই গ্রামে ৭৫ জন ভোটার রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই গ্রামে ভোট পড়েছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। ভোট কম পড়ার কারণ হিসেবে গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ভোটদানে উৎসাহ নেই বেশির ভাগ গ্রামের মানুষের। অনেকেই আবার কৃষি কাজে ব্যস্ত।
ভোটারের খরা
ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে, প্রথম ধাপের চেয়েও দ্বিতীয় ধাপে ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম। একটি পরিসংখ্যান বলছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ভোটারের বিপরীতে কাস্ট হওয়া ভোটের সংখ্যা ছিল কম। ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যাটি অনেক কম।
এ বিষয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ১ হাজার ২০০ এরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিকাল ৫টায় ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মণিপুর, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরায় ৭০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড করা হলেও উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে ভোট পড়েছে যথাক্রমে ৫২.৬, ৫৩ এবং ৫৩.৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- শুক্রবার কেরালার ২০টি আসন, কর্ণাটকের ২৮টি আসনের মধ্যে ১৪ টি, রাজস্থানে ১৩ টি, মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশে ৮ টি, মধ্যপ্রদেশে ৭ টি, আসাম ও বিহারে ৫ টি, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গে ৩টি এবং মণিপুর, ত্রিপুরা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ১টি করে আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে লড়াই করেছেন ভারতের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর, বিজেপির তেজস্বী সূর্য, হেমা মালিনী এবং অরুণ গোভিল, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও শশী থারুর, কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের ভাই ডি কে সুরেশ এবং কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী অন্যতম।
ত্রিপুরাতে ভোটদানের হার ৫৪.৫ শতাংশ
১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় ভোটদানের হারে এগিয়ে ত্রিপুরা। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে এই রাজ্যেই। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ত্রিপুরাতে ভোটদানের হার ৫৪.৫ শতাংশ। সামান্য পিছিয়ে মণিপুর। আউটার মণিপুরের কয়েকটি জায়গায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৫৪.৫ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে মহারাষ্ট্রে (৩১.৮ শতাংশ)। সারা দেশে ভোট পড়েছে ৩৯.১ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, সাতটি ধাপের মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ১০২টি আসনে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন। শেষ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ জুন। ৪ জুন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক ভারতে লোকসভা নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে ভোট পড়েছে কম সহিংসতার খবর মেলেনি উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ভারতের লোকসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ছবি: সংগৃহীত
এপ্রিল ২৮, ২০২৪


































