অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও রীতা রানী কানু :
আজ ১৭ এপ্রিল, বুধবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আঁখিরা গণহত্যা দিবস। আজ থেকে ৫৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে এলাকার চিহ্নিত কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার শতাধিক হিন্দু বাঙালি পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরম্নষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পাকিস্তানি খানসেনাদের হাতে তুলে দেয়। পরে খানসেনারা তাদের সবাইকে উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাট সংলগ্ন আঁখিরা নামক স্থানের পুকুর পাড়ে নিয়ে মেশিন গানের ব্রাশ ফায়ার করে নির্বিচারে হত্যা করে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি খানসেনা ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মুক্তিকামী মানুষ যখন উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আজকের এই দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, শেরপুর, খোলাহাটি, বদরগঞ্জ ও ভবানীপুর এলাকার শতাধিক বাঙালি হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরম্নষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ফুলবাড়ীর সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফুলবাড়ীতে নিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার (বর্তমান ফুলবাড়ী) রামভদ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার। পরে রাজাকার কেনান সরকার ওইসব মুক্তিকামী বাঙালি নারী-পুরম্নষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে খানসেনাদের হাতে তুলে দেয়। এর পরিবর্তে কেনান সরকার হাতিয়ে নেয় ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে থাকা বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থসহ স্বর্ণালঙ্কার। খানসেনারা আটক পরিবারের নারী-পুরম্নষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে ধরে নিয়ে যায় আঁখিরা পুকুর পাড়ে। সকাল ১১টার দিকে পুকুর পাড়ে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে গণহত্যা চালায়। এ সময় দু-একজন শিশু-কিশোর বেঁচে গেলেও পরে তাদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে খানসেনারা। অবশ্য দেশ স্বাধীনের পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকারের মৃতু্য হয়।
ফুলবাড়ী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লিয়াকত আলী ও ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এছার উদ্দিন বলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি’র প্রচেষ্ঠায় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের “১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমি সমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়ে) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আঁখিরা বধ্যভূমিতে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ শুরম্ন করে গণপূর্ত বিভাগ। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৭ টাকা। একই বছরের ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরেও সেটি শেষ করা যায়নি। ফলে অর্ধ সমাপ্ত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে নির্মাণাধিন স্মৃতিস্তম্ভটি। যেহেতু স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি, সেজন্য দিবসটি পালনের জন্য সেখানে আপাতত কোনো কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, সরকারিভাবে আঁখিরা গণহত্যা দিবস পালনের নির্দেশনা পাওয়া গেলে দিবসটি পালন করা হবে। তবে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ স্থানীয়রা চাইলে দিবসটি পালন করতে পারেন।
আজ ১৭ এপ্রিল : ফুলবাড়ীর আঁখিরা গণহত্যা দিবস “যেখানে নির্বিচারে হত্যা করা হয় শতাধিক বাঙালি হিন্দু পরিবারের দেড় শতাধিক নারী-পুরম্নষ, যুবক-যুবতিসহ শিশু-কিশোরকে” ‘১ বছরের বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি’
এপ্রিল ১৭, ২০২৪
































