আতিউর রাব্বী তিয়াস, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের জামালগঞ্জে পোল্ট্রী খামারি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন টুকুর বাসায় শুক্রবার (২০ জুন) গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘ্টনা ঘটেছে। ডাকাত দলের সদস্যরা ইসমাইল হোসেন টুকু ও তার স্ত্রী বিলকিস আরাকে মারপিটের পর একটি কক্ষে বেঁধে রেখে দেড়’শ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের পাহাড়পুর পাশেই অবস্থিত ইসমাইল হোসেনের মিশু নীড়’নামক সুরম্য বাসায় ওই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বাসার গৃহকর্ত্রী বিলকিস আরা দাবি-ডাকাতেরা নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও দেড়’শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিন লক্ষাধিক টাকার ছয়টি ঘড়ি লুট করেছে। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩০ ভরি স্বর্ণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এবিষয়ে মামলার বাদি ইসমাইল হোসেন টুকুর ছেলে রাসেল হোসেন বলেন, পুলিশ যেভাবে আমাদের বলেছে, সেভাবেই আমরা মামলা করেছি। স্বর্ণের পরিমাণ বড় বিষয় নয়, আমরা খোয়া যাওয়া স্বর্ণগুলো দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। আজ শনিবার (২১ জুন) সকালে সার্কেল এএসপি আরিফ হোসেন, আক্কেলপুর থানার ওসি মাসুদ রানা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।
সরেজমিনে আজ শনিবার (২১ জুন) সকাল দশটায় ইসমাইল হোসেন টুকুর সুরম্য বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, বাসার রান্না ঘরের একটি জানালার গ্রিল খোলা রয়েছে। ইসমাইল হোসেনের স্বজন ও প্রতিবেশিরা বাসায় ভিড় করছিলেন। ইসমাইল হোসেন স্ত্রী বিলকিস আরা স্বজন ও প্রতিবেশিদের সেই ডাকাতির ভয়ানক বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
ইসমাইল হোসেন স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসমাইল হোসেন একজন সুনামধন্য পোল্ট্রী ও হ্যাচারি ব্যবসায়ী। জামালগঞ্জ বাজারের মধ্যে তার বাসাটি অত্যন্ত সুরম্য। ইসমাইল হোসেন, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকা বাসায় থাকেন। শুক্রবার রাতে তারা খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে যান। রাত দুইটার পর ৬ জন মুখোশধারী ডাকাত দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাসায় ঢোকে তাদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর তাদের সবাইকে মারপিটের পর একটি ঘরে বেঁধে রেখে ডাকাতেরা বাসার নিচতলা ও দ্বিতীয়তলায় গিয়ে আসবাবপত্র ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও তিন লাখ টাকা দামের ছয়টি ঘড়ি লুট করে পালিয়ে যান। বাসার সিসি টিভি ক্যামেরায় ডাকাতির ঘটনার ফুটেজ রয়েছে।
ডাকাতির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহকর্ত্রী বিলকিস আরা বলেন, মুখোশধারী পাঁচ জন ডাকাত আমাদের ঘরে ঢুকেছিল। একজন বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন। ডাকাতেরা আমাকে ও আমার স্বামীকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। এরপর তারা আমাদের মারপিট করে একটি ঘরে আটকে রাখেন। প্রথম তলায় আমরা স্বামী-স্ত্রী থাকি। দ্বিতীয় তলায় ছেলের পরিবার থাকে। আমার ঘরের আলমিরাতে নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও একশ ভরি স্বর্ণ ও আমার ছেলের ঘরে আরও ৫০ ভরি স্বর্ণ ছিল। ডাকাতেরা সবগুলো স্বর্ণালঙ্কার দামি ঘড়ি নিয়ে পালিয়ে গেছে।
এবিষয়ে গৃহকর্তা ইসমাইল হোসেনের ছেলে রাসেল বলেন, আমি বগুড়া ছিলাম। বাসায় ডাকাতির কথা জেনে ছুটে এসেছি। ডাকাতেরা আমার মা-বাবাকে মারধর করেছেন। বাসার সিসি টিভির ফুটেজে ডাকাতদের দেখা গেছে। ডাকাত দলের সদস্যদের সবার মুখ বাঁধা ছিল। তাদের হাতে চাপাতি ছিল। ডাকাতদের সবার বয়স ৩০ মধ্যে হবে বলে মনে হচ্ছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এঘটনায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইল হোসেন থানায় এসেছিলেন। একটি মামলা করেছেন। মামলায় নগদ টাকা- তিন লাখ টাকার ছয়টি ঘড়ি ও ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
গৃহকর্ত্রী বিলকিস আরা দাবি করেছেন ডাকাতেরা তাদের দেড়’শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে এমন প্রশ্নে ওসি মাসুদ রানা বলেন, প্রথমে এরকম কথা আমাদেরও বলেছিল। তবে গৃহকর্তা ৩০ স্বর্ণের কথা বলেছেন। তিনি মামলার এজাহারেও ৩০ ভরি স্বর্ণের কথা বলেছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
আক্কেলপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি : দেড়’শ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট
জুন ২১, ২০২৫


































