গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) :
অবশেষে বন্ধ হলো স্কুলের পাশে গড়ে তোলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ অবৈধ লিমন বিড়ির কারখানাটি। লাইসেন্স বিহীন ও অনুমোদনহীন হওয়ার পড়েও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এলাকাবাসী ও কোমল মতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা না করে এই কারখানাটি চলমান ছিল।
গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা সরেজমিনে উপস্থিত হরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লিমন বিড়ি নামে কোন লাইসেন্স ও আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র দেখাতে না পাড়ায় উৎপাদন সহ কারখানার সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।
উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকার চাঁদপাড়া বাজারে মাহমুদুন নবী রোমান এলাকাবাসীর পক্ষে এবং চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দীন ও বিদ্যালয়ের সকল সহকারী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা যায়, চাঁদপাড়া বাজারের পাশে এবং চাঁদপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এই গ্রামের শহিদুল ইসলাম লিমন বিড়ি নামের একটি বিড়ি কারখানা স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে। কারখানার তামাক পাতা ও এর ডাটা গুড়ার করা মেশিনের শব্দ এবং মেশিন থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পরা তামাকের গুড়া নাকে মুখে গিয়ে কাশ ও শ^াসকষ্ট জনিত নানা সমস্যা সৃষ্টি করে আসছে। সুস্থ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসে মাথা ব্যাথা সহ নানা উপসর্গে আক্রান্ত হয়। এই বিড়ি কারখানার গুদামে রাখা তামাক পাতার দুর্গন্ধে, গ্রামের মানুষ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পরেছে। এলাকাবাসী কারখানা মালিক শহিদুলকে বার বার এ সব বন্ধের ব্যাপারে সর্তক করলেও সে কোন তোয়াক্কা না করে তার অপকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে। বাধ্য হয়ে কারখানাটি বন্ধের জন্য এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের পক্ষে লিখিত আবেদন করা হয়।এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা গত মঙ্গলাবার বিকেলে সরেজমিনের পরিস্থিতি দেখে বিড়ি কারখানার মালিক শহিদুল কে কারখানা বন্ধ করার নির্র্দেশ দেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লিমন বিড়ি নামে কোন লাইসেন্স নেই। তাছাড়া স্থানীয়দের দেয়া অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় বিড়ি উৎপাদন সহ কারখানার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবারো যদি বিড়ি উৎপাদনের চেষ্টা করে আর এলাকাবাসী যদি তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করে তা হলে কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































