অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও প্লাবন শুভ :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীরে পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সংলগ্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দিয়েও ক্ষতিপূরণ না দেওয়া প্রতিবাসহ চারদফা দাবিতে বিক্ষোভসহ মানববন্ধন করেছেন জীবন ও বসত ভিটা রক্ষা কমিটি ব্যানারে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী। এ সময় আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চার দফা পূরণ না হলে কয়লাখনি ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার আল্টিমেটার দেওয়া দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জীবন ও বসত ভিটা রক্ষা কমিটির ব্যানারে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মুল ফটকের সামনে চারদফা দাবি সম্মলিত ব্যানার, ফেষ্টুন হতে ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জীবন ও বসত ভিটা রক্ষা কমিটি সভাপতি মতিয়ার রহমান। এতে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ মোসলেমা বেগম, মালেকা বেগম, মো. আলিমুদ্দিন, গোলাম রহমান ও মাসুদ আলী প্রমুখ।
চারদফা দাবির মধ্যে রয়েছে, পূর্বের প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী ফাটল ধরা ঘরবাড়ীর ক্ষতিপূরণ দেয়া, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে চৌহাটিবাসীকে বোঝানো বন্ধ করা, কয়লাখনি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় চৌহাটি এলাকাবাসীর সাথে সমঝোতা চুক্তির ১০০% বাস্তবায়ন করা এবং চৌহাটিবাসীর চলাচলের রাস্তা মেরামত করা।
সংগঠনের সভাপতি মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, কয়লাখনির কারণে এলাকার স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। এ গ্রামের কোনো অসুস্থ রোগী থাকলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। রাস্তার বেহাল অবস্থা থাকায় অ্যাম্বুলেন্সও এই গ্রামে আসে না। এসবের প্রতিকার এবং ক্ষতিপূরণ চায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
তারা আরো বলেন, ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য মাইন বিষ্ফোরণ করা হয়। সে বিষ্ফোরণের কারণে খনি সংলগ্ন চৌহাটি এলাকার প্রায় দেড় সহস্রাধিক ঘরবাড়ী ফাটল ধরাসহ হেলে দুলে গেছে। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে পরিবার পরিজন নিয়ে। এজন্য গ্রামবাসীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চারদফা দাবি দেওয়া হয়েছে খনি কর্তৃপক্ষকে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তারা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন না। বারংবার তাগিদ দেয়ার পরেও তারা আমাদের অভিযোগ বা দাবির কোনো কর্ণপাত করছেন না। দাবি বাস্তবায়নে তৎকালীন খনি কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবগত করা হলেও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর চারদফা দাবি পূরণ করা না হলে কয়লাখনি ঘেরাও করে কঠোর আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। এরজন্য কয়লাখনি উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হলে এর দায়দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কয়লাখনির একটি সার্ভে দল গঠন করা হয়েছে। সার্ভে করে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইতোমধ্যে অন্য আট গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীকে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের কাজ শুরু করা হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্তদের বিক্ষোভসহ মানববন্ধন : ৯ অক্টোবরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কয়লাখনি ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলন
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৪


































