গোলাম নবী দুলাল, দিনাজপুর :
আমি শিশু, আমি খেলোয়াড় আমাকে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করতে দাও। প্লাকার্ড,ফেষ্টুন ও ব্যানার নিয়ে মানব বন্ধনে দাঁড়িয়ে শৈশবের সেই আকুতি । বড় মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে একই দাবীতে মানব বন্ধনে দাঁড়িয়ে ছিলেন খেলোয়াড় সংগঠক , রাজনৈতিক দলের নেতা ,সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন,সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ক্লাব,আইনজীবি,চিকিৎসকসহ সাধারন মানুষ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কে মাঠ রক্ষা কমিটির ব্যানাওে মানববন্ধন করে। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে পৌরসভা ও কাচারি গেটের মাঝামাঝি রেলগেট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালীন বক্তারা বলেন ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া মাঠটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গোর-এ শহীদ বড়মাঠ দিনাজপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ মাঠে এশিয়া উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদগাহ মিনারে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শত বছর ধরে মাঠটিতে বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম, মেলা, জনসভা এবং ইসলামী জলসাসহ নানা আয়োজন হয়ে আসছে। এ মাঠে খেলাধুলা করেই অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখছেন।
তারা বলেন, একসময় দিনাজপুরের মানুষের খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই মাঠ। কিন্তু সেখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং মাঠের বড় অংশ তারকাঁটার বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ, চলাচল ও খেলাধুলা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, ২০০৩ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ও মন্ত্রিপরিষদে গোর-এ শহীদ বড়মাঠ জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুরুতে মাঠ সংস্কারের কথা বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। পরে নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য দিনাজপুর স্পোর্টস ভিলেজে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মাঠটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয় এবং সেখানে মাঠটিকে নিজেদের সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা অভিলম্বে বড়মাঠ অবমুক্ত করনের দাবী জানান। না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষনা দেন।
বড়মাঠ রক্ষা কমিটির কার্যকরী সভাপতি গোলাম নবী দুলালের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, বিএনপির সহসভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, দিনাজপুর চেম্বারের সহসভাপতি আকতারুজ্জামান জুয়েল, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে অধ্যাপক আব্দুল জলিল, রেজাউর রহমান রেজু, অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম, মেহেরুল্লাহ বাদল, শহিদুল ইসলাম, শামীম, এড. রাবেয়া খাতুন রানু, ডা. শহিদুল্লাহ মোহাম্মদ আলী, আব্দুস সামাদ, সাইফুর রহমান প্রমুখ। পরিচালনা করেন সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকা। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রণ/এজি
দিনাজপুর বড় মাঠ অবমুক্ত করণের দাবিতে মানববন্ধন
অক্টোবর ২৮, ২০২৬
































