বগুড়া ব্যুরো :
জিপিএ-৫ কিংবা ডাক্তার-প্রকৌশলী হওয়ার মধ্যেই সাফল্যের পূর্ণতা সীমাবদ্ধ নয় মন্তব্য করে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সন্তানদের এখন বিজ্ঞানী ও গবেষক বানাতে হবে। সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কতটুকু ভূমিকা রাখা গেল, সেটাই হলো মূল্যায়নের আসল চাবিকাঠি।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৪৩ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অমলকান্তি’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সংবর্ধনা পাওয়া আনন্দের, তবে এতে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কেবল দেশে অর্জিত ডিগ্রিতে থেমে না থেকে বিদেশে গবেষণা ও জ্ঞান আহরণ করে দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এগোনোর পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহা. মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যাচে ৫৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। আর ২০২৬ সালের পরীক্ষায় ৪৩৬ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে এবং ৩৪৩ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে যেখানে পাসের হার ৬২ শতাংশ, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারই প্রায় ৭৯ শতাংশ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজশাহী বোর্ডে তৃতীয় ও জেলায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থী মোস্তাক মোর্শেদ মাহীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করে মাহী বলে, ভালো ফলাফলের জন্য শুধু মেধা যথেষ্ট নয়। দরকার নিয়মিত পরিশ্রম, সঠিক সময়ের ব্যবহার ও আত্মবিশ্বাস। আমাদের এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তারা শুধু বইয়ের জ্ঞান দেননি, আমাদের নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. ফারজানা আক্তার কনক। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তির সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করে নিজেদের ওপর কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্র বগুড়ার পরিচালক আলমগীর কবির ও জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ। বক্তব্য শেষে অতিথিরা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৩৪৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
আমন্ত্রণ/এজি
ডাক্তার-প্রকৌশলী নয়, সাফল্যের পূর্ণতা হোক বিজ্ঞানী ও গবেষক হওয়া
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬






























