আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি’র মৃত্যুর খবরে তাঁর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও সাধারণ ছাত্রজনতা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় পৌর শহরের নিমতলা মোড় থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইমরান চৌধুরী নিশাদের নেতৃত্বে পৌরশহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে নিমতলা মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইমরান চৌধুরী নিশাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফুলবাড়ী শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. জাকির আহম্মেদ, যুগ্ম সমন্বয়কারী জুলকার নাইন শিহাব, যুগ্ম সমন্বয়কারী রাহাত মাহমুদ, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিলন, সদস্য আসওয়াদ হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা ইব্রাহীম খন্দকার সুরুজ, ইমরান চৌধুরী প্রিন্স, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাগর ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা জুলাই যোদ্ধা হাদি’র হত্যকারিদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং আইন ও বিচার উপদেষ্টার দ্রæত পদত্যাগ দাবি করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব নেতা দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে দ্রæত গ্রেপ্তার করতে হবে। সেই সাথে জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়ায় আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনাকে উজ্জীবিত রাখতে তিনি শরীফ ওসমান হাদী’র নামে ফুলবাড়ীর যেকোন একটি সড়কের নামকরণ করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় হামলার শিকার হন হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেল থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানান।
পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানকার সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা।
আমন্ত্রণ/এজি
হাদি’র হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভসহ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫


































