মো. ইউসুফ আলী, দিনাজপুর :
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় চাঞ্চল্যকর পরকীয়া ঘটনায় প্রাণনাথ দাস মৃত্যু, আত্মহত্যা নয়, পিবিআই পুলিশের তদন্তে সুপরিকল্পিত হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একজন আসামী বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।
আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) নিজ অফিস কনফারেন্স রুমে বিকাল ৫ টায় দিনাজপুর পিবিআই পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ এক প্রেস ব্রিফিং-এ লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা ঘটনায় পিবিআই পুলিশের গ্রেফতারকৃত আসামী জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ডাকেশ্বরী গ্রামের নিপেন্দ্র নাথ রায়ের পুত্র দিপু রায় (২২) বুধবার বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। সকাল সাড়ে ১০ টায় গ্রেফতারকৃত আসামী দিপু রায়কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয় কিশোর নাগ এর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণের জন্য সোপর্দ করেন।বিচারক ওই আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী সময় ধরে লিপিবদ্ধ করেছেন বলে জানায়।
সূত্রটি জানায়, গত ২০ এপ্রিল রাতে এই ঘটনার ভিকটিম,বীরগঞ্জ উপজেলার ডাকেশ্বরী গ্রামের প্রাণনাথ দাস তার শ্বশুর বাড়ি একই গ্রামের নিপেন্দ্র নাথের বাড়িতে গিয়েছিল।ওই রাতে তার স্ত্রী পূজা রাণী দাসের পর পুরুষের সাথে পরকীয়া বিষয় নিয়ে তাদের মধ্য ঝগড়া কলহ হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে পূজারানী দাসের ভাই দিপু দাস ভিকটিম প্রাণ নাথ দাসকে তার শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করলে, প্রাণনাথ ঘটনাস্থলে মারা যায়।
বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য নিহত প্রাণনাথ দাসের মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ওই রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জানিয়ে দেয়, ভিকটিম প্রাণনাথ হাসপাতালে নিয়ে আসার অনেক আগেই মারা গেছেন।
এ ঘটনা আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য নিহত প্রাণনাথের শাশুড়ি জোসনা রাণী(৪৫)বীরগঞ্জ থানায় গত ২১ এপ্রিল একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলার অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে নিহত প্রাণনাথ রায়ের মাতা সারতি রানী দাস তার পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে গত ৩১ জুলাই দিনাজপুর পিবিআই কার্যালয়ে যান এবং ঘটনার বিষয় অভিযোগ করেন।
সূত্রটি জানায়, নিহত প্রাণনাথ দাসের মাতা সারতী রাণী দাসের অভিযোগের সূত্র ধরে পিবিআই এর একটি অভিযান টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পিবিআই এর তদন্তে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে হত্যা ঘটনা প্রাথমিক ভাবে তথ্য প্রমাণ উদঘাটন করা হয়। এই ঘটনার নিহত প্রান দাস এর মাতা সারতী রানী দাস বাদী হয়ে গত ২০ অক্টোবর বীরগঞ্জ থানায় ৪’জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলার দায়ের করেন।
মামলার আসামী ৪ জন নিহত প্রাণনাথ দাসের স্ত্রী পূজা রানী দাস (১৯), তার শাশুড়ি জোসনা রাণী দাস (৪৫), শশুর নৃপেন্দ্রনাথ দাস (৫২) ও স্ত্রী’র বড় ভাই দিপু রায় (২২) কে গত ২২ অক্টোবর পিবিআই পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী দিপু রায় ও পুজা রাণী দাসকে পিবিআই পুলিশ আদালত থেকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা ঘটনার দায় স্বীকার করে, দিপু রায় বিচারক এর নিকট স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী প্রদান করায়, হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































