আমিনুল ইসলাম, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
মানবতার ডাকে সাড়া দিতে হলে হৃদয় বড় হতে হয়। আর সেই হৃদয়ের নিঃস্বার্থ হাত বাড়িয়ে দিলেন দুই তরুণ—একই কলেজের, একই বিভাগের, একই ক্লাসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একজন দিলেন তৃতীয়বারের মতো রক্ত, অন্যজন পঞ্চমবার। আর তাঁদের এই মহৎ উদ্যোগে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখলেন দুজন অসুস্থ মানুষ।
আজ বুধবার (২ জুলাই) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. জিহাদ হাসান (৫৬) রক্তস্বল্পতায় ভুগছিলেন। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল রক্তের। খবর পেয়ে নিজের তৃতীয় রক্তদানের জন্য এগিয়ে আসেন ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব রহমান (২২)।
অপরদিকে বিকেল ৪টায় ফুলবাড়ী উপজেলার খায়েরবাড়ি ইউনিয়নের তরুণী সান্তনা রানী (১৮) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হাসপাতালবন্দী। চিকিৎসার জন্য তাঁরও প্রয়োজন হয় রক্তের। সাড়া দেন সাকিবের সহপাঠী ও বন্ধু মো. আমিনুল ইসলাম (২২)। এটি ছিল তাঁর পঞ্চম রক্তদান।
একই কলেজ, একই ক্লাস, একই বিভাগ—এবং একই মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ এই দুই তরুণ শুধু বন্ধু নন, একজন আরেকজনের প্রেরণা। তাঁদের বন্ধুত্ব এখন ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মাঝে—রক্তের উষ্ণতায়, ভালোবাসার বন্ধনে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “কারও চোখের জল মুছে দিতে পারা, তার জীবনে একটু আশার আলো হয়ে উঠতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
সাকিব রহমান জানালেন, “প্রতিবার রক্ত দেওয়ার পর মনে হয়—জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছি, রক্ত দিয়ে যদি কারও জীবন বাঁচে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।”
স্থানীয়রা জানান, তরুণদের এমন উদ্যোগ শুধু একজন নয়, একটি সমাজকে বাঁচাতে পারে। তারা শুধু রক্তই দেননি, সমাজকে দেখিয়েছেন—বন্ধুত্ব মানে কেবল আড্ডা নয়, কেবল সেলফি নয়—বন্ধুত্ব মানে বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো, আর্তমানবতার হাত ধরা।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বন্ধুত্ব যেখানে প্রাণ বাঁচায় রক্ত দিলেন একসঙ্গে, বাঁচালেন দুটি জীবন
জুলাই ২, ২০২৫
































