দৈনিক আমন্ত্রণ ক্রীড়া প্রতিবেদক :
দেশ কিংবা দেশের বাহিরে খেলাধুলা মিশে আছে বাঙালির রক্তে। বিদেশবিভুঁইয়ে পড়ে থাকলেও বাঙালি মনে রাখে খেলার কথা। তাই তো খেলোয়াড়দের একটু কাছে পেলেই তারা আপ্লুত হয়ে পড়ে কীভাবে একটু সেবা করবে তাদের। কীভাবে মাঠে বসে অনুপ্রেরণা জোগাবে দলকে। তারই যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখা গেলে কুয়েতে বাংলাদেশ ফুটবল দল পৌঁছানোর পরে। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলতে জাসাল-তপুরা কুয়েত পৌঁছালে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তাদের।
আগামী ২১ মার্চ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে দেশটির বিপক্ষে মোট ৬ বার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে সুখের স্মৃতি ২০০৬ সালে ঘরের মাঠে প্রথম দেখায় শুধুই একটি ড্র। বাকি পাঁচ ম্যাচেই বাংলাদেশ ডুবেছে হারের দুঃসহ স্মৃতিতে। কিন্তু সেসব দলের তুলনায় ফিলিস্তিনের এবারের দলটা আরও শক্তিশালী। গত জানুয়ারিতে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে গিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল দলটি। বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষেও নিয়েছিল লিড। তাই নিশ্চিতভাবেই এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে তারেক-তপুদের ডিফেন্স লাইনকে।
বিশেষ করে শক্তির দিক থেকে বেশ এগিয়ে থাকবে ফিলিস্তিন। কিন্তু কীভাবে তাদের আটকানো যায় সেটি আয়ত্ত করছে হ্যাভিয়ের কাবরেরার দল। কুয়েতে পৌঁছেই অনুশীলনে মনোযোগ দিয়েছেন রক্ষণভাগ নিয়ে।
এমনটাই জানালেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, ফিলিস্তিন দলটা অনেক শক্তিশালী। তারা এশিয়ান কাপের নকআউট পর্বে খেলেছে। এ ম্যাচের আগে আমরা রক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছি। রক্ষণে আমাদের ভালো করতে হবে। কোচ এসব নিয়ে কাজ করছেন। আমরাও মুখিয়ে আছি ম্যাচটির জন্য।’
কুয়েত প্রবাসীদের খাতির-যত্নে খুশি তপু মাঠেও সমর্থন চাইলেন প্রবাসীদের থেকে, এখানে আসার পর থেকে কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিমানবন্দরে নেমেই আমরা যে অভ্যর্থনা পেয়েছি, সেটি অসাধারণ। আশা করি বাংলাদেশি ভাইয়েরা মাঠে এসে দলকে সমর্থন দেবেন।’
শুধু বিমানবন্দরেই নয়, বাংলাদেশ দল বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে অনুশীলন মাঠেও। তারেক-জামালরা যেখানে অনুশীলন করছেন (আল শায়ের নামের ফুটবল ক্লাবের মাঠ), সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়েও বাড়তি খাতিরই পাচ্ছে দল। ম্যানেজার আমের খান জানালেন সেটি, আল শায়ের ফুটবল ক্লাবে অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন। ইফতারের পরপরই আমরা অনুশীলনে নামি, এই সময় বাংলাদেশিরাই মাঠের ফ্লাডলাইট থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দিয়েছেন। চাহিদামতো দল সবকিছুই পেয়েছে।’


































