মো. হায়দার আলী, পঞ্চগড় প্রতিবেদক :
পঞ্চগড়ে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন চাষীরা।কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আলু চাষ করতে জমি চাষ, সার,বীজ কীটনাশক ও মজুরি খরচ অনেক বেশি। সে তুলনায় আলুর দাম কম হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের ভাউলাপাড়া গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান আনসারী বলেন, আমি ৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। গত বছর আলু চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। তাই এ বছর আলুর আবাদ বাড়িয়েছি। আলুর ফলনও ভালো। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ১০০ মন। তবে বাজার মূল্য অনেক কম। বর্তমানে প্রতি মন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা মন দরে। এবার আলুতে লোকসান হবে।
সদর উপজেলার ধনিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিতোষ বলেন, আমি ১ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। দাম অনেক কম। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ১০ থেকে ১১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে চলতি অর্থবছরে আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৯৪৭ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে । সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে কার্ডিনাল, কারেজ, গ্রানোলা, ডায়মন্ড, সানসাইন, রোমানা জাতের আলুর।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, এ বছর পঞ্চগড় জেলায় ৯ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল । প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে।চাষীরা আলু চাষে বেশ আগ্রহী। ফলন মোটামুটি ভাল । ৫ মেট্রিক টন পার হেক্টর।সবচেয়ে বেশি আলুর আবাদ হয়েছে বোদা এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায়। এছাড়া বাকি যে তিন উপজেলা আটোয়ারী, সদর এবং তেতুলিয়া সেখানেও আলুর আবাদ হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে চাষিরা আলুর বাজার মূল্য বেশি পেলে আগামী বছর আরো বেশি আলু চাষ করবেন ।এছাড়া এখানে বেশ কিছু সীড উৎপাদনকারী কোম্পানি আছে । তারা মানসম্মত ও গুনসম্মত আলু উৎপাদন করছেন।এখানকার আলু বীজ চাষিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় রোপণ করছেন। এখানে ম্যাক্সিমাম এস্টোরিক জাতের আলু আবাদ হয়েছে। এছাড়া বিএডিসি, সানসাইন, লেভেলার কুইনানি,কারেজসহ আগাম জাতের আলু চাষ হচ্ছে।আশা করি নতুন জাতের আলু আসার পরে চাষীরা আলু চাষে বেশি আগ্রহী হবেন।এছাড়া ফলন এবং বাজার মূল্য বেশি পাবেন।
আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদেরকে আলুর বিভিন্ন উৎপাদন কলাকৌশল, কিভাবে আলু জমিতে আলু লাগাতে হবে, কিভাবে বীজ শোধন করতে হবে, কিভাবে সার ম্যানেজমেন্ট করতে হবে, কিভাবে রোগ বালাই দমন করতে হবে এসব বিষয়ে চাষীদের কে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া উঠান বৈঠক করি এবং চাষীদের কে লিফলেট প্রদান করি।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































