হোসেন রায়হান, পঞ্চগড় :
পঞ্চগড়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক দখল করে চলছে বালির ব্যবসা। সদর উপজেলার প্রভাবশালী বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না। মহাসড়কের পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনেই বালুর স্তূপ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্য, পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনা।
ঢাকা-বাংলাবান্ধা মহসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে নামেও পরিচিত। এটি জেলার প্রধান এবং ব্যস্ত মহাসড়ক। এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সড়কের ধার দিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, কৃষক এবং পথচারীরা হাঁটাচলা করে। কিন্তু বর্তমানে মহসড়কের এই স্থানগুলো দখল করে বালু ব্যাবসায়ীরা ব্যবসা করছে।
সদর উপজেলার চৈতন্য পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু করে জগদল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ বালু ব্যবসায়ী মহাসড়কের জায়গা দখল করে বালুর স্তূপ করেছেন। সারা দিনে এখানে মহাসড়কের ওপর ট্রাকে বালি লোড করা হয়। স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত ধুলোবালি ওড়ে। ধুলোবালির কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলতে পারে না।
অতিরিক্ত ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ার কারণে শ্বাসতন্ত্রের অসুখ বেড়েছে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে। সিলিকোসিস রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। মহাসড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে বালি লোড দেওয়ার ফলে অনেক সময় যানজট হয়। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মানিক প্রধান বলেন, ‘মহাসড়কের পাশেই বালির ব্যবসা হওয়ার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চলাচল করতে পারি না। প্রশাসনের কেউ আসেনা দেখতে। যে যার মতো সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে।’
চৈতন্যপাড়া সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বালি সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমি বহুবার অনুরোধ করেছি। আমার উপরমহলকে অবহিত করেছি। সড়ক বিভাগকে জানিয়েছি। আমার অনুরোধও রাখেনি কেউ, কোন ব্যবস্থাও নেয়নি।’
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘স্কুলের দপ্তরি আক্তার হোসেন মহসড়কের পাশেই প্রাইমারি স্কুলের সামনে বালির স্তূপ করে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছেন। কত লোকই তো করে। অন্তত এক থেকে দুই শ ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে ব্যবসা করেন। কেউ কিছু বলে না।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ব্যবসায়ীদের চিঠি দিয়েই খালাস। পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, বালি সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তোয়াক্কা করে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা জানি। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে মামলা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা অচিরেই উদ্যোগ নেব।’
মহাসড়ক দখল করে বালির ব্যবসা
মার্চ ১৫, ২০২৪


































