পুষ্টিবিদ লিনা আকতার :
শীতের আমেজ সারাদেশ জুড়ে। এখন প্রতিদিনিই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। নিজেকে উষ্ণ রাখতে এই শীতে এবার গরম পোশাকের পাশাপাশি খাবাররে তালিকায় কিছু খাবার রাখুন, যা শরীরকে করবে উষ্ণ।
বিশেষ কিছু খাবারও যে শীত তাড়াতে ভূমিকা রাখে তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। জেনে নিন সেসব খাবারের নাম ও কিছু গুণ
স্যুপঃ শীতে শরীর গরম রাখার পাশাপাশি শরীর হাইড্রেট রাখা অত্যন্ত জরুরী যা স্যুপ হতে পারে এক অন্যন্য খাবার।এটি ছোট, বড় সবাই সহজেই খেতে পারে। এজন্য শীতের তাজা রঙ্গিন সবজি যেমন টমেটো গাজর মতো সবজি দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন স্যুপ।এছাড়া ডাল,বার্লি ও মুরগি দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খেতে পারেন।
আদা চা : আদা শুধু শরীরকে গরম করে না, তার সাথে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হজমশক্তি বাড়ায়। প্রতিদিনকার সালাদ, রান্নায় আদা কুচি ব্যবহার করার পাশাপাশি আদা চা পান করুন। এমনকি গরম পানিতে আদা কুচি মিশিয়ে পান করুন। এটি আপনার শরীর ভিতর থেকে গরম করে থাকবে।
হলুদ দুধ ও চা : দুধের সাথে হলুদ বা হলুদ চা পান করতে পারেন শীতের থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।এছাড়া হলুদ শীতে ব্যাথা বেদনা দূর করে।
মসলা চা : মসলা চা উপাদান আপনার মেটাবলিজমকে সাময়িকভাবে বৃদ্ধি করে যা আপনাকে উষ্ণ অনুভূতি প্রদান করে। শীতের সকালে এক কাপ মসলা চা আপনার খুশখুশ কাশি ও সর্দিতে দারুনভাবে কাজ করে।
বাদাম: বিভিন্ন জাতের বাদাম যেমন, চিনাবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম ইত্যাদি ভালো কোলেস্টেরল, ভিটামিন, ফাইবার ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস। গরমজাতীয় খাবার বলে শীতে নাশতা হিসেবে বাদাম খেতে পারেন।
গুড়: আদার সাথেগুড় মিশিয়ে খেতে পারেন এটি আপনার ঠাণ্ডা কাশি উপশম করতে সাহায্য করে থাকে।এছাড়া শীতে গুড়ের তৈরি খাবার খেতে খান।চা বানাতে চিনির পরিবর্তে খেজুরের গুড় খেতে পারেন।শরীর গরম হওয়ারন পাশাপাশি সুন্দর ঘ্রান পাবেন যা শীতে মন ফুরফুরে আমেজ থাকবে।
ডিম: শীতে শরীর গরম রাখতে নিয়মিত ডিম খান। এটি শরীর গরম রাখার পাশাপাশি আপনাকে শক্তি প্রদান করে। ডিম সিদ্ধ, অমলেট অথবা ডিম ভাজি করে খেতে পারেন।
মাংস: খাসি ও গরুর মাংস শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের কারও বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
শুকনো ফল: খেজুর, কিশমিশ,অ্যাপ্রিকট এবং অন্যান্য শুকনো ফল আপনার শরীরকে গরম ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।
আপেল: আপেলে রয়েছে প্রায় ৪.৪ গ্রাম ফাইবার। আপেলের স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার দুটোই আমাদের দেহের উষ্ণতা ধরে রাখতে সক্ষম। এ ছাড়াও আপেলে রয়েছে ৮৬% পানি যার ফলে আমরা শীতে কম পানি পান করলেও আমাদের দেহকে সঠিকভাবে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করবে।
মিষ্টি আলু: শীতকালের এই সবজিটিরও রয়েছে শীত দূর করার ক্ষমতা। ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন সমৃদ্ধ মিষ্টি আলুকে বলা হয় সুপারফুড, যার রয়েছে দেহকে নানা ধরনের রোগ থেকে মুক্ত রাখার পাশাপাশি শীত তাড়ানোর বিশেষ ক্ষমতা।
মধু: সর্দি, কাশি, ফ্লু ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়তে অনন্য এক উপাদান মধু। মিষ্টিজাতীয় খাবার হলেও মধুতে নেই বাড়তি ক্যালরির ঝামেলা। এ ছাড়া শরীর গরম রাখতেও বেশ উপকারী।
মরিচ: মরিচে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীর থেকে ঠাণ্ডার অনুভূতি দূর করে। সর্দি এবং কফ কমায়।
দারুচিনি: শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এই মসলা বেশ উপকারী। আলাদা স্বাদ আনতে স্যুপ, রান্না করা খাবার, সালাদের সঙ্গে দারুচিনি মিশিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া চায়ের সঙ্গেও মেশাতে পারেন।
রসুন: শীত তাড়াতে এবং সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে রসুন হতে পারে এক দারুন কার্যকরী ওষুধ। পাশাপাশি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ঘি এবং আঁশ জাতীয় খাবার: শীতকালে অনেকেই আঁশ জাতীয় খাবার খেতে চাই না।শীতকালে আঁশ জাতীয় খাবার বেশি করে খেলে হজম প্রক্রিয়া বাধা হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে, সেই সঙ্গে শরীরের ভেতরের তাপমাত্র বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাইরের ঠাণ্ডা সেভাবে শরীরকে কাবু করতে পারে না।
তুলসি: আয়ুর্বেদিক গ্রন্থ থেকে জানতে পারা যায়, শীতকালে শরীরকে সুস্থ এবং কর্মক্ষম রাখতে তুলসি এবং আদার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এই দুই প্রাকৃতিক উপাদানের শরীরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিভাইরাল প্রপার্টিজ থাকায় যা শীতের রোগ থেকে পরিত্রান পেতে পারি।
সবুজ শাক–সবজি: শীতকাল মানেই সবজি বাজারে রঙের পরশ! আর সেই রং যাতে আপনার খাবারের প্লেটেও লাগে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আর সেই কারণেই তো প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন গাজর, পালং শাক, বিনস, টমেটো মতো রঙ্গিন শাকসবজি।
লেখক পরিচিতি : পুষ্টিবিদ লিনা আকতার, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার দিনাজপুর।
শীত তাড়াতে যেসব খাবার খাবেন
জানুয়ারি ১৫, ২০২৫






























