গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিবেদক :
ধান, আলু, ভুট্টা, আখসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে গাইবান্ধা জেলার মধ্যে অগ্রগণ্য উপজেলা গোবিন্দগঞ্জের কৃষকরা বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বেশ কিছু দিন ধরে তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তা নন ইউরিয়া সারে তিন থেকে চারশ’ টাকা বেশি দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে টেলিফোনে ও সশরীরে অভিযোগ জানিয়েও কোন সুরাহা করতে না পেরে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই বিসিআইসি’র এক বা একাধিক ডিলার রয়েছেন। কিন্তু তারা প্রায় সব সময়ই সার সরবরাহ অপ্রতুল জানিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখেন। ফলে জমিতে সময় মতো সার প্রয়োগের প্রয়োজনে বেশি দাম দিয়েই খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতি ইউনিয়নে ডিলার থাকলেও তারা সেখানে একটি ঘর নিয়ে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে অল্প কিছু সার বিক্রি করলেও বাকি সার উপজেলা সদরসহ মহিমাগঞ্জ, নাকাইহাট, কামাদিয়া, কোমরপুর, ফাঁসিতলা বেশ কয়েকটি বড় বাজারে তাদের স্থায়ী দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করেন। বাড়তি দাম দিলে এ সব দোকান থেকে সব সময়ই সার কিনা যায়। তবে এ সব সারের কোন বিক্রয় মেমো দেন না তারা।
উপজেলার মহিমাগঞ্জ বাজারে কয়েক দিন ঘুরেও ন্যায্য মূল্যে সার কিনতে না পেরে হতাশ কৃষক পুনতাইড় গ্রামের মো: জুয়েল রানা বলেন, ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরের টিএসটি সার ৩০০ টাকা বেশি টাকা না দিয়ে কিনে উপজেলা কৃষি অফিসে ফোন করি। সেখান থেকে জানানো হয়, তিন-চার দিন পরে সরবরাহ হলে স্বাভাবিক দামেই সার পাবেন। কিন্তু তিন-চার দিন পরে দোকানে গিয়েও ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি অফিসারও এর কোন সদুত্তর দিতে পারেন না। তাই গত বুধবার এই এলাকার ৯ জন কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যৌথভাবে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে সার ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা জানান, সারের সরবরাহ থাকলে নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করা হয়।
মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের সারের ডিলার আলহাজ¦ নাজির হোসেন প্রধান জানান, বর্তমানে সারের কোন সংকট নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। মহিমাগঞ্জ বাজারের সার ব্যবসায়ী ও শালমারা ইউনিয়নের ডিলার জাহাঙ্গীর আলম তার নিজের সহ আরও দুই জন ডিলারের সার একাই বিক্রি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও তিনি মেসার্স জমিলা খাতুন, মেসার্স নাজির হোসেন প্রধান ও মেসার্স তাজুল ইসলাম টুকু নামে বিএসএফআইসি ছাড়াও বিএডিসি’র একটি লাইসেন্সে ব্যবসা করে থাকেন। তিনি জানান, অন্য ডিলারের সার বিক্রির ব্যাপারে কিছুটা সাহায্য করি মাত্র। একই কথা বলেন মহিমাগঞ্জের সার ব্যবসায়ী ও শিবপুর ইউনিয়নের ডিলার শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার স্ত্রীর ফরিদা বেগমের নামে আরেকটি লাইসেন্স রয়েছে। সেটার জন্য মহিমাগঞ্জ বাজারে ব্যবসা করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ী বলেন, উপজেলায় বিসিআইসি ২৪ জন ছাড়াও বিএডিসি’র এই ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সার বিক্রি করেন। এ জন্যে তারা ইচ্ছে মাফিক দর হাঁকিয়ে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগ পেয়ে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করেছি। কোনভাবেই সিন্ডিকেট করে বেশি দামে সার বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা মুঠোফোনে দৈনিক আমন্ত্রণকে বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে কৃষি বিভাগকে তদন্ত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আমন্ত্রন/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জে বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা ডিলারদের অস্বীকার, কৃষি বিভাগের অভিযানে নামার আশ্বাস
জানুয়ারি ১৩, ২০২৫

































