টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা :
গোলাগুলি এবং বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আবারও কেঁপে ওঠেছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত । বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার পর থেকে উপজেলার সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ সীমান্তের বাসিন্দারা ওপারের গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। এতে এপারে ফের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি জানায়, গত ৮ ডিসেম্বরের পর মংডু শহরের কাইন্দাপাড়ায় জান্তা সরকারের (না খা খা) কেরাম ক্যাম্পসহ ২৭০ কিলোমিটার এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
২০২৩ সালের প্রথম দিকে আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ থেমে গেলেও একই বছেরের নভেম্বরে নতুন করে এই সংঘর্ষ শুরু হয় । আরাকান আর্মি ও রাখাইন রাজ্যের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে স্বায়ত্তশাসনের জন্য এই লড়াই করে আসছে।
সাবরাং ইউনিয়নের ঝিনা পাড়া এলাকার মৌলভী হাফেজ ইব্রাহীম বলেন, ‘বুধবার রাত ১টার পর থেকে মিয়ানমার থেকে থেমে থেমে মর্টার ও বোমার শব্দ ভেসে আসছে। মাঝরাতে একেকটি বোমার শব্দে আমাদের বাড়িঘর কেঁপে ওঠছে। ৫ মিনিট পর পর বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। এভাবে আতঙ্কে দিন পার করছি আমরা। এদিকে ছোট্ট ছেলে-মেয়েরা ভয়ে কান্নাকাটি করছে ।’
মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা জানান, চলমান যুদ্ধের কারণে মংডু শহরের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বকসু পাড়া,আশিখ্যা পাড়া, বইল্লা পাড়া, আইজ্জা পাড়া, সাইরা পাড়া, মাংঘালা, দারোগা পাড়া, কোলাবিল, বইরগ্যা বিল, গর্জনদিয়া,আইজিপি ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মুর্শেদ বলেন, ‘মিয়াননমারের রাখাইন রাজ্যে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ-মিয়াননমার সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’ সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন,‘সতর্ক অবস্থানে আছি, যাতে কেউ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমার সীমানায় না যায়। এছাড়া নাফ নদী দিয়ে নতুন করে যেন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেজন্যে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।’
আমন্ত্রণ/এসিজি
বিস্ফোরণের শব্দে ফের কাঁপল টেকনাফ সীমান্ত
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৪
































