বগুড়া ব্যুরো ও সোনাতলা প্রতিবেদক :
বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নদী পারের মানুষের মাঝে ভাঙন আতংক দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু কিছু স্থানে জিওব্যাগ ফেললেও নদী ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না।
আজ শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের মির্জাপুর, পূর্ব সুজাইতপুর, রাধাকান্তপুর, আমতলী, মুশারপাড়া, আউচারপাড়া, মহব্বতের পাড়া, জন্তিয়ারপাড়া, সরলিয়া, পূর্ব তেকানী, চুকাইনগর এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ১৭-১৮ বছর ধরে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেছে ওই এলাকাগুলোর একাংশ। এমনকি আউচারপাড়া ও তার আশপাশের এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও হাট-বাজার স্থানান্তর করা হয়েছে। যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে নদী ভাঙন আতংক কাজ করছে। এছাড়াও কিছু কিছু এলাকায় শয়ন ঘরের পাশাপাশি গবাদি পশু রাখার ঘরগুলোর কাছে নদীর তীর পৌছে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদী খনন না করায় নদীর গভীরতা হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে প্রতি বছর বন্যার সময় এবং বন্যা পরবর্তী নদী অব্যাহত ভাঙনে শত শত একর আবাদি জমি, গাছপালা, বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙন রোধে শুষ্ক মৌসুমে কোন ভ‚মিকা না নিলেও বর্ষা মৌসুমে এসেও নামে মাত্র জিওব্যাগ ও বাঁশ পাইলিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে মাত্র।
এ বিষয়ে মির্জাপুর এলাকার জয়নাল আবেদীন, সম্পা বেগম, বাহার উদ্দিন, সোনা মিয়া, মিনারুল ইসলাম বলেন, গত ১৭-১৮ বছর ধরে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীর তীর এখন ঘরের সামনে এসে পৌছেছে। রাতে দু’চোখে ঘুম আসে না। কখন যেন স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সহ শয়ন ঘরটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তারা আরও জানান, গত কয়েকদিন পূর্বে নদীর অব্যাহত ভাঙনে ওই এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ নির্ঘুম রাত কাটায়। মির্জাপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেললেও তা অপ্রতুল।
স্থানীয় পাকুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান একেএম লতিফুল বারী টিম ও তেকানচুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় নদী পাড়ের লোকজনদেরকে। বন্যার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিলেও শুষ্ক মৌসুমে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ নদী খনন করে ভাঙন রোধ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও হাসানুজ্জামান বলেন, তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে আমরা কিছু জিওব্যাগ মির্জাপুরে নদীতে ফেলেছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি
সোনাতলায় যমুনা নদীর ভাঙনে চিন্তিত নদীপারের মানুষ
অক্টোবর ২৫, ২০২৪


































