আমিনুল ইসলাম, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দিনাজপুর–৫ (ফুলবাড়ী–পার্বতীপুর) আসনে ভোটের দিনে দেখা গেল এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া প্রায় ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মসকুনারা খাতুন লাঠিতে ভর দিয়ে সকালেই হাজির হন ভোটকেন্দ্রে—নিজের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে।
ফুলবাড়ী উপজেলার সিদ্দিশি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় পৌঁছালেও ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিজেই হেঁটে যান তিনি। তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দায়িত্ববোধ উপস্থিত ভোটারদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনেকেই বলেন, “বয়স তাকে থামাতে পারেনি, গণতন্ত্রের প্রতি দায়িত্ববোধই তাকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।”
বৃদ্ধা মসকুনারা খাতুন বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে যতবার নির্বাচন হয়েছে, কখনো ভোট দেওয়া বাদ দেইনি। যতদিন বেঁচে থাকব, ভোট দিয়ে যাবো। এটা আমার দায়িত্ব।”
তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, চোখেমুখে ছিল নাগরিক দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি। মুহূর্তটি যেন নতুন প্রজন্মের কাছে এক নীরব বার্তা—গণতন্ত্র টিকে থাকে সচেতন অংশগ্রহণে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই দিনাজপুর–৫ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহমেদ হাছান বলেন, “ভোটারদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
৯৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি যেন প্রমাণ করে—গণতন্ত্র শুধু তরুণদের নয়, প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। বয়সের সীমা পেরিয়েও তার এই অংশগ্রহণ হয়ে থাকবে দায়িত্ববোধ ও নাগরিক সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আমন্ত্রণ/এজি































