আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
“পাঠাগার হোক গণমানুষের বিশ্ববিদ্যালয়”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে রংপুর বিভাগীয় পাঠাগার সম্মেলন ২০২৪। এই সম্মেলনের আহ্বায়ক কেন্দ্রীয় পরিষদের পাঠাগার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মেহেনাজ পারভীন, সদস্য সচিব পলাশ কুমার রায়।
শনিবার (২৩ নভেম্বর), রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে সাংগঠনিক সভার মধ্য দিয়ে ১ম পর্বের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেগম রোকেয়া স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলালের সভাপতিত্বে পাঠাগার সম্মেলনের সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য রাখেন-সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান রায়হান, পাঠাগার সংগঠক জয়নাল আবেদীন, শেখ আবুল হোসেন সিলন, মীর রবি, আলহাজ্ব মো. মোনায়েম খান, মো. শামীম সরকার, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের সমাজসেবা সম্পাদক পলাশ কুমার রায় ও পাঠাগার সুহৃদ শ্যামলী খাতুন।
সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ সভাপতি রাজেন্দ্র দেবনাথ, কার্যকরী সদস্য শিবলী হাওলাদার ও স্বপ্নরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত সকল পাঠাগারকে বই উপহার দিয়েছেন বইবন্ধু কাজী এমদাদুল হক খোকন, ডা. রাজেন্দ্র দেবনাথ, আমেরিকাপ্রবাসী, পাঠাগার প্রেমী শেখ সিরাজুল ইসলাম।
“নদী ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় পাঠাগারের ভূমিকা”- শীর্ষক সেমিনারের মধ্য দিয়ে ২য় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি আবদুস ছাত্তার খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম ভূতপূর্ব অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ কারমাইকেল কলেজ,রংপুর
এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক। সেমিনার বক্তা-ড. তুহিন ওয়াদুদ, অধ্যাপক বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। আলোচকবৃন্দ মসিহ উদ্দিন শাকের, বিশিষ্ট চলচিত্র নির্মাতা, ড. শাশ্বত ভট্টাচার্য, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক, গেস্ট শিক্ষক, তিস্তা ইউনিভার্সিটি। সফি খান, সংবাদ কর্মী, কাজী এমদাদুল হক খোকন, বইবন্ধু। সরকার হায়দার, নাট্যকার,নির্দেশক ও গণমাধ্যম কর্মী।
সেমিনারের মূল প্রাবন্ধিক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘অতীতের নদী ও প্রাণ- প্রকৃতির সন্ধান পেতে যেমন বই তথা পাঠাগারমুখী হওয়া জরুরি তেমনি বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্যেও পাঠাগার জনগুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুকূল পৃথিবী দিতে নদী ও প্রাণ–প্রকৃতির পাঠ গ্রহণের জন্য পাঠাগারের অনন্য ভূমিকা আছে’
প্রধান অতিথি প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘পাঠাগারের সংকট উত্তরণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পাঠাগরকে রক্ষা করে গেলে পরিবেশ সুরক্ষার কাজও এগিয়ে যাবে। আমরা যদি সমাজের সচেতন চোখ বৃদ্ধি করতে চাই, তাহলে অবশ্যই বই পড়তে হবে, পাঠাগারে যেতে হবে। আশার বাতি জ্বালাতে আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করে যেতে হবে। গতিশীলতা আনতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ‘পাঠাগার কোনো খণ্ডিত বিষয় নয়, আমাদের জীবনের পূর্ণাঙ্গ জায়গা এটি। প্রকৃতিকে স্বমহিমায় সবুজায়ভ করতে পাঠাগারের কর্মসূচি থাকা প্রয়োজন’চলচ্চিত্র পরিচালক ও স্থপতি মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, ‘ছেলেবেলায় আমি বই পড়তাম, আর বইয়ের পাতায় সিনেমা দেখতাম। আমার সিনেমা নির্মাণের অনুপ্রেরণা ছিল বইপাঠ। আমি মনে করি, জ্ঞান অর্জনের একমাত্র পথ বই। বই পড়তে পাঠাগার জরুরি। নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষাতেও পাঠাগার ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে দিয়ে পৃথিবীকে রক্ষা করতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের অজ্ঞতা দূর করতেও পাঠাগারের শরণাপন্ন হবে’।
অধ্যাপক ড. শাশ্বত ভট্টাচার্য বলেন, ‘মানবসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়, তৈরি হয় বই লেখা ও পড়ার প্রয়োজনীয়তা। আমাদের মেধা ও মননের জায়গায় উৎকৃষ্টতা অর্জনে প্রাণ-প্রকৃতি ও পাঠাগারের সম্পর্ক নিবিড়। প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে গেলে মানবসমাজও ধ্বংস হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পাঠের মধ্য দিয়ে নদী প্রাণ-প্রকৃতির বোধ তৈরি করে দিতে পারে পাঠাগার। পাঠাগার হবে মুক্তচিন্তার বিশ্ববিদ্যালয়, গণমানুষের বিশ্ববিদ্যালয়। পাঠাগারই মানুষকে একত্রিত করে নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় চিন্তার ঐক্যে পৌঁছে দিতে পারে’।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সফি খান বলেন, ‘নদীর ইতিহাস জানতে হলে নদীর কাছে যেতে হবে, নদীর ইতিহাস পড়তে হবে। এজন্য যেতে হবে পাঠাগারে। নদীর ইতিহাস ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইতিহাস লেখা আবশ্যক। পাঠাগার এই কাজটা করতে পারে’।
সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের সভাপতি আবদুস সাত্তার খান তার বক্তব্যে স্থানীয় বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষায় পাঠাগারকর্মীদের সচেতনতা তৈরির আহ্বান করেন। স্থানীয় নদী ও প্রাণ-প্রকৃতির ইতিহাস সংরক্ষণে পাঠাগার হয়ে উঠতে পারে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সংরক্ষণে পাঠাগারগুলোকে উদ্যোগ গ্রহণেও তাগিদ জানানো হয়। একই সঙ্গে পাঠাগার কার্যক্রমকে প্রসারিত করতে সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেন সকল আলোচক।
সম্মেলনে পাঠাগার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে রফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও জয়নাল আবেদিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট রংপুর বিভাগীয় সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































