আজিজুল হক সরকার :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর ব্যাস্ততম এই মহাসড়কটি এখন কৃষকদের ধান-ভ‚ট্টা মাড়াই ও খড় শুকানোসহ ধান শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে। সড়কের ওপর সারি সারি ধানের পালা। সারাক্ষণ চলছে ধান- ভুট্টার মাড়াই এর কাজ। সড়কজুড়ে শুকানো হচ্ছে ভূট্টা, ধান ও খড়। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা ; হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে টেম্পো, অটো রিকশা,ভেন, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল আরোহীরা। গত ০১ বছরে এই সড়কে ঘটে যাওয়া অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ০৫জন, আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক।গত ৩ মে ওই এলাকার পাতরাপাড়ার মোশাররফ চৌধুরীর স্ত্রীও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর ভ‚ট্টা ও বোরো মৌসুম (মে-জুন) এই দুইমাস সড়কটিতে সড়কের আশপাশের গ্রামের কৃষকদের দখলে থাকে। সড়কটির ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গত বছর ১৫ থেকে ২০ জন দুর্ঘটনায় হতাহতের শিকার হয়েছেন। এ বছর এক মাসে ১৭টি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সরেজমিন, ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত অন্তত ১৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে দলদলিয়া ডাঙ্গাপাড়া, মহেষপুর, তেঁতুলিয়া, চিলাপাড়া, ভাগলপুর, ভালকা জয়পুর, মহিষবাতান, রসুলপুরসহ প্রায় ১০ গ্রামের কৃষকরা পুরো সড়কটি দখলে নিয়ে মাঠ থেকে ধান কেটে সরাসরি মহাসড়কের ওপর পালা করে রাখছেন। এরপর চলছে যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। ধান মাড়াই শেষে সড়কজুড়ে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। এতে বিশাল প্রশস্তের মহাসড়কটি এখন সরু সড়কে পরিণত হওয়ায় সেই সরু সড়কের ফাঁক ফোঁকড় দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীবাহী যানবাহন,ট্রাক,লরিসহ ছোটবড় যানবাহন।
মহেশপুর গোলচত্বরের স্থানীয় মহিলা কলেজের কলেজ স্টাফ গোলাম মোস্তফা,আফজাল হোসেন বলেন, এই সড়কে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।কয়েক মাসে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় ৫-৬ জন মারা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক।গত ৩ মে ওই এলাকার পাতরাপাড়ার মোশাররফ চৌধুরীর স্ত্রীও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
ফুলবাড়ী উপজেলার জিয়ার মোড় নামক স্থানের কৃষক আফজাল হোসেন, নইম ইসলাম বলেন, আগেরমত বাড়ির সামনে গৃহস্থরা ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখেন না বলে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর জায়গার অভাবে বাধ্য হয়েই মহাসড়কের ওপরই ধান-ভ‚ট্টা মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ করে থাকেন।
মধ্যপাড়া পাথরখনির ঠিকাদার শাহিন হোসেন ও মনোজ সাহা বলেন, ব্যবসায়ীক কাজে দিনের ৩ থেকে ৪ বার মধ্যপাড়া পাথরখনিতে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে হয়। মহাসড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে বাড়ি থেকে বের হলে মনে হয় না যে, সুস্থ অবস্থায় বাড়ী ফিরতে পারবো।
কয়েকজন কৃষক, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসের চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আগের মতো মানুষ আর ফাঁকা জায়গায় ধান ফেলে না রেখে সড়কে রাখছে। সড়কটিতে ধান কাটা মাড়াই মৌসুমে ছোট-বড় যানবাহনগুলো প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
মাইক্রোবাস চালক মুন্না,মাসুম, মো. আলম ও হিটু হোসেন বলেন, এ মহাসড়কটিতে ধানকাটা মাড়াই মৌসুমে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এসবের কারণে কার ও মাইক্রোসের নিয়ন্ত্রণে রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। ফলে ভয়ে ভয়ে ওই রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. লতিফ শাহ বলেন,যতটা পারি তাদের বুঝিয়ে বলা হবে। রাস্তা জ্যাম করে পথচারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না,তাতে দুর্ঘটনা বাড়বে।
ফুলবাড়ী সড়ক উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমান উল্লাহ আমান বলেন, বার বার নিষেধ করার পরেও তারা শুনতে চায়না। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
আমন্ত্রণ/এজি


































