শফিউলের মরদেহ দেড় মাসের দেশে আনতে পারেনি সহায় সম্বলহীন পরিবার
গোপাল মোহন্ত, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিবেদক :
পরিবারের সচ্ছলতার জন্য বিদেশ গিয়ে চাকুরী না পেয়ে অর্থ সংকটে না খেয়ে মারা গেছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাফিউল ইসলাম নামের এক প্রবাসী। সদা হাস্যজ্জল প্রাণবন্ত যুবকের মর্মান্তিক এ মৃত্যুতে গোটা গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনার পর থেকে গাঁ ঢাকা দিয়েছে প্রতারক দালাল। এদিকে দেড় মাসেও নানা জটিলতায় দেশে আনতে পারেনি মফিউলের মরদেহ। এজন্য মরদেহ দেশে আনতে সরকারি সহযোগি চাইছেন সাফিউলের হতদরিদ্র পরিবার ও স্থানীয়রা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের রসুলপুর বালুপাড়া সাফিউল ইসলাম। এই গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সাফিউল ছিল সবার ছোট । সব সময় পুরো গ্রাম মাতিয়ে বেড়ানো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব এবং হাস্যজ্জল এই প্রাণবন্ত যুবকের সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় কাজের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে অকাল মৃত্যু গোটা গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গরীব দিন মজুর বাবার দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা যুবক সাফিউল ইসলাম তার আশা ছিল বিদেশে গিয়ে আয় রোজগার করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর।তাই গত বছরের পহেলা মে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোন গ্রহণ করে। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে আরো ১ লাখ টাকা সুদের উপর নিয়ে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি জমান। কিন্তু সৌদি আরব গিয়ে দালালের কারসাজিতে চাকুরী না পেয়ে হতাশায় পড়েন তিনি। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বিভিন্ন জায়গায় চাকুরীর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন তিনি।
চাকরি না পেয়ে উপার্জন না থাকায় অর্থাভাবে মসজিদে মসজিদে সামান্য খাবার সংগ্রহ করে কখনো রাস্তায় আবার কখানো ফ্লাইওভারের নিচে দীর্ঘ ১৫ মাস অতিবাহিত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন শফিউল।এর এক পর্যায়ে গত ২৮ জুলাই সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের গেটে চিকিৎসা ও খাবার অভাবে মারা যায় সে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য বিদেশ পাড়ি দেয়া ছেলের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না তার বৃদ্ধ বাবা, মা ও পরিবার এবং গ্রামবাসী। মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার ও গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। এক নজর দেখার জন্য সরকারের কাছে লাশটা ফেরৎ চায় পরিবার।
সরেজমিনে বাড়ী গিয়ে শফিউলের পিতার জলিল শেখের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন লাশ ফেরৎআনার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে দেড় মাস অতিবাহীত হলেও ফেরৎ আনা সম্ভব হয়নি। তিনি এব্যাপারে সরকারের সুদৃস্টি কামনা করেন।
স্থানীয়রা জানান, একই গ্রামের প্রবাস ফেরত মিষ্টারের মাধ্যমে তার প্রলোভনে গত বছরের মে মাসে এক সাথে বিদেশ যান মৃত সাফিউল ও রনি নামের দুই যুবক। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় চাকুরী না পেয়ে অর্থ ও খাবার অভাবে তাদের দু-জনের মধ্যে সাফিউল মারা যান ও রনি একই অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের এমন অবস্থার বিষয়ে মিষ্টারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি উল্টো সে তাদের নানা ধরণের হুমকি দিচ্ছে । ঘটনার পর থেকে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন দালাল মিষ্টার। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি তাকে।
তবে সাফিউলের মরদেহ দেশে আনতে সরকারি সহযোগিতার আশ^াস দিয়েছেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক মো: নেশারুল হক, এ সময় দালালের মাধ্যমে বিদেশ না যেতে সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শও দেন তিনি। সাফিউলের মৃত্যুর খবরে পর থেকে গোটা গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের আবহ। এখন পরিবার ও গ্রামবাসী জেনে গেছে প্রাণবন্ত ও হাস্যজ্জল সাফিকুল আর কোন দিনই ফিরবেনা। তাই নিথর দেহটা যাতে এক নজর দেখতে পায় এ জন্য সরকারের কাছে দাবী সৌদি আরব থেকে লাশটা এনে ফেরৎ চায় পরিবার ও এলাকাবাসী।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ভাগ্যে অন্বেষণে সৌদি আরবে গিয়ে আনাহারে মৃত্যু গোবিন্দগঞ্জের যুবক
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫
































