বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক :
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রবিউল ইসলাম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য ও গুঞ্জন। কেউ বলছেন এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, আবার নিহতের পরিবারের দাবি—রবিউলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর বটতলা এলাকায় সাতৈর-মুহাম্মদপুর সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরা জেলার মুহাম্মদপুর উপজেলার দিঘা ইউনিয়নের সান্দাইন গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল তার শ্বশুরবাড়ি থেকে শ্যালকের মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। পরে মোটরসাইকেলটি ফেরত নিতে নিহত রবিউল ইসলাম ও একই গ্রামের শাহিদুল ইসলাম শাহিদ শহিদুলদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা মোটরসাইকেল না নিয়েই ফিরে যান। পরে শহিদুল ফোন করে আবার তাদের বাড়িতে আসতে বলেন। শাহিদ ও রবিউল পুনরায় হাটখোলারচর গ্রামে আসেন। তবে অভিমান করে রবিউল বাড়িতে না গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
জানা যায়, রাত ৭টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত রবিউল মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সাতৈর থেকে মুহাম্মদপুর ব্রিজগামী একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার ডান পায়ের রান, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে প্রাইভেটকারটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। স্থানীয়রা গাড়ির চালক ও এক আরোহীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
প্রাইভেটকারের চালক সাহাজাদা বিশ্বাস বলেন, আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। হাটখোলারচর বটতলা এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার পাশে একজনকে দেখতে পেয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। পরে গাড়ি খাদে পড়ে যায়। লোকটিও ধাক্কা লেগে মারা যান জানতে পারি। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
নিহতের বাবা গোলাম সারোয়ার অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে লাশের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। লাশের শরীর, পা, মাথায় আঘাত ও পরণের প্যান্ট জামা ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। যেটা মনে হচ্ছে প্রাইভেটকার তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এজি


































