মো. নাজমুল হোসেন, বীরগঞ্জ :
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের জয়ন্ত ঠাকুরের মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরগঞ্জ উপজেলার পুর্ব মল্লিকপুর গ্রামে।
জানা যায়, লক্ষণ ঠাকুরের প্রথম স্ত্রী অঞ্জলী’র মৃত্যুতে ৩/৪ বছরের শিশু ছেলে মাতৃহারা জয়ন্ত, তার বাবার কাছে বেড়ে উঠলেও তার সুশিক্ষিত ৬ মামা খোঁজ খবর রাখতেন, লেখাপড়া সহ হাত খরচ বহন করতেন।
শান্তানু মজুমদার বলেন, ২০১০ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের একমাত্র বোনের মৃত্যুর পর থেকে লক্ষণের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও আদরের ভাগিনার সাথে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ ছিল। বোন মারা যাওয়ার কিছুদিন পরে লক্ষণ দ্বিতীয় বিবাহ করেছে এবং জয়ন্তের উপর সব সময় শারীরিক নির্যাতন চালায়।
সম্প্রতি লক্ষণের দ্বিতীয় স্ত্রী কলহের কারনে বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি পালিয়ে গেছে। গত ১২ আগস্ট দিবাগত রাতে জযন্তের মৃত্যু হবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না। জয়ন্তের এ মৃত্যুকে কোন মতেই মেনে নিতে পারছেন না তার মামা, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশী।
নানা গোপাল চক্রবর্তী এবং অন্যান্য স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, লক্ষণ ঠাকুর যোগসাজসে জয়ন্তকে ঠান্তা মাথায় খুন করে বস্তায় ভরে রাতারাতি কাহারোল নদাবাড়ি বিলডাঙ্গী গ্রামের বাড়ি হতে মুটুনী হাটের পুর্বপাশে ঢেপা নদী শ্বশ্মানে সকলের অজান্তে তড়িঘড়ি দাহ করা হয়েছে।
১৩ আগস্ট দুপুরে জানতে পেরে ঘটনাস্থল বীরগঞ্জ এবং কাহারোল নদাবাড়ি গিয়ে সরজমিন প্রত্যক্ষ করে বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশ এবং অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন মর্মেও জানান। স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, জয়ন্ত ছিল মেধাবী, সহজ সরল শান্ত স্বভাবের।
স্বাভাবিক মৃত্যু হোক কিংবা অস্বাভাবিক মৃত্যু হোক কিন্ত কাউকে না জানিয়ে রাতারাতি অন্যত্র নিয়ে দাহ করার কারন কি। তাজা প্রান অকালে ঝড়ে যাবে, এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া হবে না। আমরা ন্যায় বিচারসহ খুনিদের শাস্তি দাবী করছি।
এ ঘটনায় মৃত কালিপদ মজুমদারের পুত্র নিহত জয়ন্তের মামা স্বপন মজুমদার বাদী হয়ে লক্ষণ, তার ভাই দীপু চক্রবর্তী, মধু চক্রবর্তী, ভাগ্নে লিটনসহ অজ্ঞাত নামের বিরুদ্ধে গত ১৬ আগষ্ট’থানায় হত্যা মামলার এজাহার দাখিল করেছেন। কিন্ত ঘটনার ৯/১০ দিন অতিবাহিত হলেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় বাদি এবং তার স্বজনরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যপারে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানা মো. মজিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনাটি তিনি অবগত আছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































