আজহার ইমাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের বিরামপুরে সোনা পাচারকারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা সোনার বার আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, বিরামপুর থানার বেতার বার্তা অপারেটর কনস্টেবল রাশেদুজ্জামান এবং হাকিমপুর থানার কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। গত বুধবার সকালে উপজেলার কাটলা বাজার সংলগ্ন রামচন্দ্রপুর আদিবাসী পল্লীর সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে মো. জামিল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বাইসাইকেলযোগে ভারতীয় সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় ওই দুই পুলিশ সদস্য তার গতিরোধ করেন। দেহ তল্লাশিকালে পুলিশের সাথে জামিলের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামিল তার পকেটে থাকা সাতটি সোনার বারের মধ্যে পাঁচটি কৌশলে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন। পুলিশ সদস্যরা তখন জামিলের পকেট থেকে বাকি দুটি সোনার বার উদ্ধার করলেও তা জব্দ না দেখিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং জামিলকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তারা সাদা পোশাকে ফিরে এসে পুকুরে নেমে ফেলে দেওয়া বাকি পাঁচটি সোনার বারও উদ্ধার করে নিয়ে যান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজ উদ্দিন ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জানা গেছে, ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকৃত দুটি সোনার বার বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকারের কাছে জমা দেন। তবে ওসি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তিন দিনের ছুটিতে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (হাকিমপুর সার্কেল) আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সাথে আর কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
আমন্ত্রণ/এজি


































