আমন্ত্রণ ডেস্ক :
জনকল্যাণে নিবেদিত শ্রম ও জীবনের চেষ্টাগুলো কখনোই বৃথা যায় না। কমরেড কামরুন নাহার বেবী তেমনই একজন মানুষ, যিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ে সারাজীবন লড়েছেন, তাঁর অবদান বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও প্রগতিশীল আন্দোলনের ইতিহাসে অম্লান থাকবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কমরেড কামরুন নাহার বেবী-এর স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনস্থ মনির-আজাদ হলে আয়োজিত এই শোকসভায় বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বেবী’র বন্ধু ও সহযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন এবং গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেন।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, “কমরেড কামরুন নাহার বেবী স্বীয় কর্মে, আদর্শে, অবদানে এবং আত্মত্যাগে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশ, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতেন। তিনি বাম আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম, লাল সালামের অগ্রদূত। কামরুন নাহার বেবী-কে লাল সালাম।
বক্তারা বলেন, কামরুন নাহার বেবী ছিলেন একজন আত্মমর্যাদাশীল, নির্ভীক এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সংগ্রামী নারী, যিনি আত্মপ্রচার না করে নীরবে-নিভৃতে দেশের জন্য, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।
বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ছাত্রী থাকাকালে বেবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ)’-এর সভাপতি ছিলেন।
সভা থেকে জানা যায়, জীবনের শেষ অধ্যায়ে ২০১৯ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০২২ সালে কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে। প্রথম দফায় অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে কিছুটা সুস্থ হলেও ২০২৪ সালে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, কানাডার সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে, রাত ৩টা ২০ মিনিটে, জীবনাবসান ঘটে এই সংগ্রামী নারীর। তাঁকে অটোয়ায়, তাঁর স্বামী কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হকের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ৩১ জুলাই, বৃহত্তর নোয়াখালীর (বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার) সদর উপজেলার আলীমাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কামরুন নাহার বেবী। বাবা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান এবং মা ফজিলাতুন নেছা—চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন লক্ষ্মীপুর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং স্কুলে, মাধ্যমিক শিক্ষা মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন হলিক্রস কলেজ থেকে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদে।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভুইয়া, বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ নাসু, আ ক ম জহিরুল ইসলাম, বেলাল চৌধুরী, মেজবা উদ্দিন আহমেদ, রওনাক করীম বন্যা, আলমগীর সিকদার লোটন, অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান হাওলাদার মজনু, নাজমুল ইসলাম সোহাগ, শহিদুল ইসলাম মুকুল, মফিজুর রহমান লাল্টু, সৈয়দ ইকরাম হোসেন রুমেল, সিকদার হারুন মাহমুদ, রজত হুদা, তৈমুর খান আপু প্রমুখ।
জীবন বৃত্তান্ত পড়েন বাসদ ঢাকা মহানগর নেত্রী রহিমা আক্তার মনি। সভা পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন।
সভার শুরুতে অস্থায়ী বেদীতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নেতৃবৃন্দ।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও সমাজতান্ত্রিক নারী আন্দোলনের অগ্রদূত কামরুন নাহার বেবীকে স্মরণ
অক্টোবর ১১, ২০২৫






























