বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় রোজার প্রথম দিনেই ইফতারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী টক দই। ঠান্ডা পানীয় খাবার হিসেবে সাদা দইয়ের তুলনা হয় না। দ্রুত শরীর শীতল করায় এ দই ইফতারে গুরুত্বপূর্ণ অনুসদ হয়ে উঠেছে। সারাদিন রোজা পালন শেষে কান্তিময় শরীরে সাদা দই দিয়ে ঠান্ডা শরবত ও ঘোল পান করে তৃষ্ণা মেটান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ইফতারে অপরিহার্য হয়ে উঠা সাদা দইয়ের সঙ্গে এবার বগুড়ায় বেড়েছে মাংসের তৈরি বিভিন্ন ধরণের কাবাব, রোস্ট ও হালিম। এদিকে রমজান উপলক্ষে বগুড়ায় দইয়ের দাম কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শীতের শেষে বগুড়াতেও বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। যার ফলে বেড়েছে সাদা দইয়ের চাহিদা। রমজানের প্রথম দিনে দুপুর থেকে শহরের দইয়ের দোকানে ও ফুটপাতে বসা দোকানে প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। রোদ থাকায় দইয়ের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। দইয়ের দোকানগুলোতে ১৮০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় কেজিতে সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। আর ফুটপাতে আকার ভেদে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব দই। রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য দই এখন ইফতারে অন্যতম আকর্ষণ। এদিকে বগুড়ার বাজারে বুন্দিয়া বিক্রি হচ্ছ ২০০ টাকা কেজি। ছোলা ১৮০ টাকা কেজি, পিয়াজু ২০০ টাকা কেজি। এছাড়া হালিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা করে।
বগুড়ার দই ব্যবসায়ীরা জানান, পবিত্র মাহে রমজান ও শীত শেষে গরমে সাদা দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের টক দই বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা ও কম মিষ্টি বড় হাড়ি দই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়। রোজাদার ব্যক্তিরা ঠাÐা পানীয় খাবার খেতে চায় বেশি। সাদা দই দ্রæত শরীরকে ঠাÐা করে। এই কারণে বগুড়ায় ইফতারে সাদা দইয়ের চাহিদা বেশি। তারা আরও জানান, রমজান মাসে দইয়ের প্রচুর চাহিদা থাকায় চাহিদামত দই সরবরাহ করা যায় না।
দই কিনতে আসা বগুড়া শহরের চেলোপাড়ার এলাকার ব্যবসায়ী ফাইজুল ইসলাম জানান, সারাদিন রোজা শেষে ইফতারের সময় তৃষ্ণা মেটাতে সাদা দইয়ের স্বাদের বিকল্প নেই। পরিবারের সবার কাছে সাদা দই সবচেয়ে প্রিয়। সাদা দই দ্রæত শরীরকে ঠাÐা করে। তৃষ্ণা মেটাতে খুব কার্যকরী এবং হজমে ভালো কাজ দেয়।
বগুড়া এশিয়া সুইটসের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ উজ্জামান দিপু জানান, রমজানের প্রথম দিনে সাদা দই কিনতে মানুষ ভিড় করছেন। পুরো মাস জুড়ে চাহিদা থাকে। সাদা দইয়ের পাশাপাশি স্পেশাল (৬৫০ গ্রাম) ওজনের দই বিক্রি করা হচ্ছে ২৭৩ টাকায়, একই ওজনের শাহী দই ৩২৮ টাকা, সাদা দই (চিনিমুক্ত) ২৫৫ টাকা, টক দই ১৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। মাহে রমজান উপলক্ষে প্রতিটি দইয়ের দাম কমানো হয়েছে।
বগুড়া শ্যামলী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার জামিল খান জানান, শীত শেষে বগুড়ায় তাপমাত্রা বেড়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে রোজা। যে কারণে সাদা (টক) দইয়ের চাহিদা বেড়েছে। সাদা দই দ্রæত শরীরকে ঠান্ডা করে। এ কারণে বগুড়ায় ইফতারে সাদা দইয়ের চাহিদা বেশি। তিনি আরও বলেন, বহুকাল ধরে ইফতারে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বগুড়ার সাদা দই। ঠান্ডা পানীয় খাবার হিসেবে সাদা দইয়ের তুলনা হয় না।
বগুড়া রসনা দই মিষ্টি ঘরের স্বত্বাধিকারি পুলক ঘোষ জানান, রোজার প্রথম দিকে সাদা দইয়ের চাহিদা ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। এজন্য আমরা শুধু সাদা দই বিক্রি করছি। ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হাড়ি ১৮০ টাকায় থেকে বিক্রি হচ্ছে। পুরো রোজা জুড়েই এই সাদা দইয়ের চাহিদা থাকবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
































