বগুড়া ব্যুরো :
ফেসবুকে একটি প্রচলিত বাউল গানের লাইন পোস্ট করার জেরে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক ওয়াহেদ ফকিরের নিঃশর্ত মুক্তি ও বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দিনের প্রত্যাহারের দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৫ মে) দুপুর ১টায় শহরের কেন্দ্রীয় সাতমাথা মোড়ে ‘বৈষম্যবিরোধী গণমাধ্যম আন্দোলন’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন জেলার বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিকরা। সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওয়াহেদ ফকিরকে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত শনিবার রাতে শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে ওয়াহেদ ফকিরকে আটক করে বগুড়া সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত হানে এমন একটি পোস্ট দিয়েছেন। যদিও ওয়াহেদ ফকির দাবি করেছেন, তার পোস্টটি একটি প্রচলিত বাউল গানের কলি এবং তা কোনোভাবেই ধর্মীয় অবমাননার উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমি ধর্ম নিয়ে কিছুই লিখিনি। একটি মহল আমার পেছনে লেগেই আছে। তারা বহুদিন ধরেই ষড়যন্ত্র করছে। এবার তাদের চেষ্টা সফল হয়েছে।”
জানা গেছে, আটক হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শাজাহানপুর উপজেলার এক সাধারণ হিন্দু ব্যক্তি পলাশ কুমার মহন্ত বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে ধর্মীয় স¤প্রদায়ের নেতারা মামলা করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
আজ সোমবার (৫ মে) সকালে বগুড়া সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওয়াহেদ ফকিরের জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, কোনো মামলা কিংবা ওয়ারেন্ট ছাড়াই একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে ওসি এসএম মঈনুদ্দিন আইন অমান্য করেছেন এবং ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব সবুর শাহ লোটাস, রেজাউল হাসান রানু, মহসিন আলী রাজু, মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষ, এফ শাহজাহান, সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, মমিনুর রশীদ সাইন, আবুল কালাম আজাদ, মাহফুজ মÐল, ইনছান আলী, রেজাউল হক বাবু, তানভীর আলম রিমন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ওয়াহেদ ফকির নিয়মিতভাবে পুলিশের অপকর্ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখে আসছিলেন। এ কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে তার মুক্তি ও দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সমাবেশ পরিচালনা করেন সাংবাদিক প্রতীক ওমর।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































