জ্বালানি তেল, সার কীটনাশকের ম‚ল্য বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ
চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও আমিনুল ইসলাম :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধান চাষে খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় মৌসুমের শুরুতে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, অধিকাংশ চালকলমালিকের গুদামে আমদানি করা (এলসি) চালের মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মিলাররা। ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও আপাতত কম। বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস স‚ত্রে জানা যায়, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে জিরাশাইল, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৯২, ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-১৬, বিনা ২৫, হাইব্রিডসহসহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।
যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, এবার ফলন ভালো হয়েছে; তবে মাঠের কৃষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, অনিয়মিত আবহাওয়া, রোগবালাই ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ফলন আশানুরূপ হয়নি। উপরন্তু বাজারে দাম কম থাকায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারম‚ল্যের অসামঞ্জস্যে কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠলেও স্বস্তি ফিরছে না।
উপজেলার পারইল কুদবীর এলাকার কৃষক পাত্রাস মার্ডী জানান, বর্গা নিয়ে চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে দুই বিঘার ধান কেটে ৭৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে প্রতি বিঘায় ৩৫ মণ করে চিকন (মিনিকেট) ধান পেয়েছেন।
পলিশিবনগর এলাকার কৃষক ইউসুফ আলী জানান, তিনি ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তার মতে, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ মণ ধান কম উৎপাদন হচ্ছে এবং দামও কম। এতে কৃষকরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। তিনি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ফুলবাড়ী উপজেলার সেনড়া এলাকার ধান ব্যবসায়ী সৈয়দ খাদেমুল ইসলাম বলেন, মোটা ধান ৭৫ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা ১৫০০থেকে ১৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের প্রতিবস্তা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ টাকা, চিকন মিনিকেট ২১০০ টাকা এবং ৯০ জিরা জাতের ৩৫০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। দাম কম হওয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, মোকান থেকে এর বেশি দামে ধান নিচ্ছে না বলেই ধানের দাম বাড়ছে না। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার প্রতি বিঘায় গড়ে ৩৪ থেকে ৩৫ মণ ফলন হচ্ছে। বোরো ধান কাটতে কৃষিশ্রমিকের পাশাপাশি হারবেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটাই-মাড়াই চলছে। আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় কৃষকরাও দ্রুত তাদের খেতের ধান গোলাই তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
আমন্ত্রণ/এজি


































