রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এ সময় মানুষের চৈত্রের দাবহাদে হাঁসফাঁস অবস্থা হওয়ার কথা থাকলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ভিন্ন চিত্র দেখা দিয়েছে। দিনে তাপমাত্রা বাড়তির দিকে ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলেও রাতে অনুভূত হচ্ছে শীত। বৈদু্যতিক ফ্যান চালানোর পরিবর্তে মানুষকে গায়ে লেপ-কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে।
দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডার এই বিরম্নপ আবহাওয়ার প্রভাবে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি-কাশি-জ্বরসহ শ্বাসকষ্ট জনিত বিভিন্ন রোগ আর বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
পৌরশহরের কাঠ ব্যবসায়ী কমল সরকার বলেন, গাছ কিনতে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। এ সময় দিনে গরম থাকার জন্য শীতের কাপড় সঙ্গে থাকছে না। কিন্তু সন্ধ্যার পর শীত বাড়তির দিকে থাকায় কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ীতে ফেরার সময় শরীতে ঠান্ডা লেগেছে। এজন্য পাঁচদিন থেকে সর্দি-কাশিসহ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
গৃহবধূ সুলতানা পারভিন বলেন, দিনে তাপমাত্রা গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে শীত অনুভূত হচ্ছে। আর রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে, যা থাকছে সকাল ৭-৮ টা পর্যন্ত। এজন্য ভোরে ওঠার কারণে ঠান্ডা-গরমের জন্য সর্দি-কাশিসহ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তার শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের জন্য কষ্ট আরো বেড়েছে। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় হিমালয়ের বরফের পুরম্নত্ব অনেকটা বেড়ে গেছে। এর ফলে দিনের বেলায় সূর্যের কারণে প্রভাব না পড়লেও রাতের বেলায় তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। এতে রাতে কিছুটা শীত অনুভূত হচ্ছে।
দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও রাতের বেলায় তাপমাত্রা থাকছে ১৭ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকায় রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা, তার সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধুলাবালুর পরিমাণ বেড়েছে। এতে সর্দি, কাশি; বিশেষ করে অ্যাজমা-জাতীয় রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এ সময় বাইরে চলাফেরায় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি রাতে কাঁথা বা চাদরজাতীয় কিছু একটা গায়ে দিতে হবে। এ ছাড়া সরাসরি ফ্যানের নিচে ঘুমানো উচিত নয়।
ফুলবাড়ীতে রাতে ঠান্ডা, দিনে গরম বাড়ছে রোগ
মার্চ ২৯, ২০২৪


































