দৈনিক আমন্ত্রণ, দিনাজপুর :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ডুগডুগি এলএসডি সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে পৌনে দুই কোটি টাকার চাল ও বস্তা আত্মসাতের অভিযোগে এলএসডি গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ঘোড়াঘাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইউনুস আলী মণ্ডল ঘোড়াঘাট থানায় এ মামলা করেন। অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার নুনিয়াগাড়ী গ্রামের আবদুল মতিন মণ্ডলের স্ত্রী। খোয়া যাওয়া চালের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে আনোয়ারা বেগমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, পাঁচ বছর ধরে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন আনোয়ারা বেগম। দুই মাসের মধ্যে তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা। গত ১৫ এপ্রিল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইউনুস আলী মণ্ডল ডুগডুগি এলএসডি গুদাম পরিদর্শনে যান। এ সময় গুদামে চাল ও বস্তা সংকট দেখতে পেয়ে বিষয়টি তিনি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানান। এর মধ্যে খাদ্যগুদামের হিসাব দেওয়ার জন্য একাধিকবার আনোয়ারা বেগমকে বলা হয়। কিন্তু তিনি হিসাব না দিয়ে গত ২৫ এপ্রিল গুদামের চাবি নিয়ে চলে যান। পরে একাধিকবার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ ও বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়েও তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জেলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা খাদ্য অফিস। তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে ওই খাদ্যগুদামে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার চাল ও বস্তা বিক্রির সত্যতা পেয়েছে।
তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, গত ৬ মে গোডাউনের দুটি কক্ষে থাকা চালের সর্বশেষ হিসাব নিরূপণ করে তদন্ত কমিটি। হিসাব অনুযায়ী, গুদামে মোট ৩১ হাজার ৫৮৪টি বস্তায় ১ হাজার ৬৪ দশমিক ১৫৫ টন চাল মজুদ থাকার কথা। কিন্তু ২১ হাজার ৫১৮টি বস্তায় ৭৪৫ দশমিক শূন্য ১৪ টন চাল পাওয়া যায়। ১০ হাজার ৬৬ বস্তা চাল (৩১৯ দশমিক ১৪১ টন) গোডাউনে পাওয়া যায়নি। প্রতি টন চালের দাম ৫২ হাজার ৪৭২ দশমিক ৯১৮ টাকা হিসাবে যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৫৯ টাকা ৫২ পয়সা। এ ছাড়া গুদামে ৫০ কেজি ওজনের ৪ হাজার ২৭৮টি খালি বস্তার হদিস পাওয়া যায়নি।
পৌনে দুই কোটি টাকার চাল আত্মসাৎ, ঘোড়াঘাটে লাপাত্তা খাদ্য কর্মকর্তা, মামলা
মে ৭, ২০২৪


































