রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর স্বস্তির বৃষ্টিতে কৃষকের মুখে ঝিলিক দেখা দিয়েছে। বুধবার (২০ মার্চ) দিনভর থেমে থেমে হওয়া এই বৃষ্টির মধ্যে কৃষকদের ফসলের খেত পরিচর্যা করতে দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত থেকে বুধবার (২০ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার সর্বত্রই হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ফুলবাড়ী উপজেলায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে জেলার অন্য এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। এরআগে গত বছরের অক্টোবর মাসে একবার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এরপর গত পাঁচ মাসে ফুলবাড়ীতে আর বৃষ্টি হয়নি।
কৃষকদের ভাষ্য, উপঝেলার বেশির ভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে জমিতে বোরো ধান, ভুট্টা, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হচ্ছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এসব ফসলের খেতে সেচ দিতে হয়েছে বাড়তি খরচে। এতে কৃষকের চাষাবাদে খরচ বেড়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত থেকে শুরম্ন হওয়া এই বৃষ্টিকে আর্শীবাদ হিসেবে দেখছেন এলাকার কৃষকরা।
উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন থেকে আকাশের বৃষ্টি ছিল না। ফলে বোরো খেতে মেশিন চালু করে জমিতে সেচ দিতে হয়েছে। সব সময় সেচ দিতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক যোতিশ চন্দ্র রায় বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বোরো আবাদে বেশি পানি সেচ দিতে হয়েছে। বৃষ্টি হলে এত সেচ দিতে হতো না। তবে এবার বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, অনেক দিন পরের এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য আর্শীবাদ হয়েছে। উপজেলায় চাষ হওয়া ভুট্টা, মরিচ, বোরো ধানসহ সব আবাদের জন্যই এই বৃষ্টি উপকারী। বৃষ্টির পর কৃষকরা ফসলের খেতে সার দিচ্ছেন। তবে যেসব গম পাকতে শুরম্ন করেছে, বৃষ্টির কারণে সেগুলো কাটতে হয়তো কয়েকদিন দেরি হবে। এই বৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের উপকার হবে এবং কৃষকরাও উপকৃত হবেন।


































