হৃদয় কুমার, পঞ্চগড় জেলা প্রতিবেদক :
শীতের আমেজ শেষ হতে না হতেই পঞ্চগড় জেলাজুড়ে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই মশার আক্রমণ শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই মশার রাজত্বে জনজীবন এখন চরমভাবে বিপর্যস্ত। বিশেষ করে জেলা শহরের পৌর এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মশার প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পড়ার টেবিলে বসে মশার যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে।
মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাচ্ছে না হাসপাতালগুলোও। বেসরকারি কিছু ক্লিনিকে নিজস্ব উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্র ভিন্ন। সেখানে রোগীদের অভিযোগ, মশার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের সুস্থ হওয়ার বদলে শারীরিক অস্বস্তি আরও বাড়ছে। সরকারি পর্যায়ে কার্যকর মশক নিধন অভিযানের অভাবকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।
মশা থেকে বাঁচতে বাজারে কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে ও ইলেকট্রিক ব্যাটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উন্নতমানের মশা বিতাড়ক পণ্য কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাজারে কম দামের যেসব নিম্নমানের কয়েল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। উল্টো এসব কয়েলের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা নোংরা পানি মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
পঞ্চগড়ে সচেতন মহলের দাবি, এখনই সমন্বিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত ফগিং (মশার ওষুধ ছিটানো), ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিলে পঞ্চগড় কে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এজি
পঞ্চগড়ে মশার চরম উপদ্রব, অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
মার্চ ৯, ২০২৬
































