বগুড়া ব্যুরো :
১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন স্বামীর বাধার মুখে ধানের শীষে ভোট দিতে না পেরে অভিমানে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন গৃহবধূ গোলাপী বেগম। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনাটি সেদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তখনই তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আনলে তিনি গোলাপী বেগমের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব (রাজনৈতিক) আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রোববার (৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী ও উপহার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি নিজেই গুজিয়া মাঝপাড়া গ্রামের সেই গোলাপী বেগমের বাড়িতে যান।প্রত্যন্ত গ্রামে তার বাড়িতে হাজির হয়ে গোলাপী বেগম ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও ঈদ উপহার পৌঁছে দেন।এসময় প্রতিমন্ত্রী গোলাপী বেগমকে বোন সম্মোধন করে তার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমি আজ এখানে এসেছি। তার পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে নতুন জামা কাপড় ও ঈদ সামগ্রী হিসেবে চিনি সেমাইসহ নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিদ্রোহী নারীর সংখ্যা বাংলাদেশে খুব কম। নারীর নিজের ক্ষমতায়নের জন্য যে বিষপান করতে পারে, যদিও এটা উদহারণ- তারপরও আমি অনুরোধ করব এটা যেন কেউ না করে। কারণ আত্মহত্যা মহাপাপ। উনি এটাতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে করেছেন। পরবর্তীতে আর কেউ যেন না করেন। এই প্রতিবাদ অন্যভাবেও করা যেতে পারত। আমরা বিষপানকে নিরুৎসাহিত করতে চাই।
মন্ত্রী তাকে বোনে সম্মোধন করায় এই সম্মাননা পেয়ে গোলাপী বেগম আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি খুব খুশি হয়েছেন বলেন জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম তাজুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, বিএনপি নেতা মীর শাকরুল ইসলাম সীমান্ত, উপজেলা যুবদল সভাপতি খালিদ হোসেন আরমান প্রমুখ।
এলাকাবাসী প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। এর আগে শিবগঞ্জের সরকারি অনুষ্ঠান শেষ করে বুড়িগঞ্জ থেকে পরবর্তী অনুষ্ঠানে রওনা দেবার সময় ধান ক্ষেতে প্রায় ৮–১০ জন কৃষক তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হঠাৎই প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর থেমে যায়।
কৃষকরা জানান, তাদের ডিপ সেচ প্রকল্পের বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে, ফলে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। কৃষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ডিপ সেচ স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন।
পরে তিনি দ্রুত বিএডিসি ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সমাধানের নির্দেশ দেন এবং একদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে বলেন। দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এসময় তিনি বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড দিবে বিএনপি সরকার। ফ্যামিলি কার্ডসহ আরো সরকারি সকল সুবিধা কোন টাউট-বাটপারের পাল্লায় পড়া যাবে না। সম্পুর্ন বিনামূল্যে এসব সুবিধা সরকার জনগণের কাছে পৌছে দিবে।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষায় নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। স্কুল ড্রেস, বইসহ নারীদের ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি পড়াবে সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
আমন্ত্রণ/এজি


































