বগুড়া ব্যুরো :
ঈদুল আজহার আর বাঁকি আছে মাত্র দুইদিন। এই মুহূর্তে কেউ পশু কিনেছেন, আবার কেউ পছন্দসই পশু খুঁজে বেড়াচ্ছেন। পছন্দের পশু কেনার পর কোরবানি দেওয়ার সরঞ্জাম কিনতে দা, ছুরি, চাপাতির দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন সবাই। দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
বুধবার (৪ জুন) বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ন রেল গেটে ঢুকতেই দেখা যায় একাধিক কামারের দোকান। দোকানগুলোর সামনে মাটিতে আবার চৌকিতে সাজানো চকচকে ধারালো দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি এসব দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররাও।
দোকান ঘুরে দেখা যায়, ওজনভেদে চাপাতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার ছোট-বড় ছুরি ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু জবাইয়ের জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের লম্বা ছুরি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
কারিগর উত্তম কুমার বলেন, ঈদ এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। রাত জেগে বিভিন্ন সাইজের চাকু-ছুরি তৈরি করতে হয়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছুরির, তবে চাপাতি ও বঁটিও ভালো বিক্রি হচ্ছে।
দোকানিরা জানান, সারা বছর সেভাবে কাজ থাকে না তবে এই ঈদ আসলে প্রচুর বেচাকেনা হয়। এবার অনন্যা বছরের তুলনায় কমই বিক্রি হচ্ছে। ঈদের একদিন আগে সবচেয়ে বেশি সরঞ্জাম বিক্রি হয় বলেও জানান তারা।
দোকানি সূত্রে জানা যায়, লোহার বাটযুক্ত দা ও কাঠের বাটযুক্ত দা এবং বটি দা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। পশুর চামড়া আলাদা করার ছোট ছুরি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, মাঝারি ৫০ টাকা থেকে ৯০ টাকা এবং বড় ছুরি ৮০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া লম্বা ছুরি ২০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, জবাই করার ছুরি ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, চাপাতি সাড়ে ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, কুড়াল ১৬০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এমদাদ আলী নামের একজন ক্রেতা বলেন, প্রতি বছরই নতুন কিছু সরঞ্জাম কিনতে হয়। কারণ, সারা বছর ওসব ব্যবহার হয় না তাই আগের বছরেরটা দিয়ে ভালো কাজও না। ফলে নতুন সরঞ্জাম কিনলে কাজ ভালো হয়।
ফোরকান আহমেদ নামের একজন তরুণ বলেন, কোরবানির পশু কেনা হয়েছে একটু আগে তাই এবার সরঞ্জাম কিনতে এসেছি।
দোকানি বাদল কর্মকার বলেন, সারা বছর খুব অল্প পরিমাণে বেচাকেনা হয়। তবে ঈদের আগে প্রচুর চাহিদা থাকে তাই আগে থেকেই কিছু সরঞ্জাম তৈরি করে রাখি। এছাড়া গ্রাহকদের চাহিদা অনুসারে আমরা সরঞ্জাম তৈরি এবং সরবরাহ করে থাকি।


































