চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও প্লাবন শুভ :
ঢাকে একের পর এক কাঠি পড়ছে। ভক্তরা ঢাকের তালে নাচছেন। একপাশে খই, মুড়ি, মুড়কি, জিলাপি, খেলনা আর পুতুলের দোকান। অন্যপাশে অতিথিদের বসার মঞ্চ। পাশে মন্নুজান স্কুলের সামনে দিয়ে দেবী দুর্গাকে পদ্মায় বিসর্জন দেন পুণ্যার্থীরা।
আজ রোববার (১৩ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।
এ সময় পুরো এলাকাটি তীক্ষ্ণ নজর রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ফলে প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এবার উপজেলায় ৫৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের পূর্ব প্রান্তের ছোট যমুনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও পুলিশ সদস্যরা।
দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক ভ্যানে করে প্রতিমা নিয়ে আসছেন পুণ্যার্থী। ভ্যানের সঙ্গে ঢাকের তালে তালে নেচে নেচে আসছেন ভক্তরা। সরকারি কলেজ মাঠে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয় প্রতিমা রাখান নির্দিষ্ট স্থান। ভ্যান এলেই সুশৃঙ্খলভাবে দেবী দুর্গাকে নামিয়ে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের দর্শনের জন্য রাখা হয় কলেজ মাঠের পূর্ব প্রান্তে। সন্ধ্যার আগে সাত পাক ঘোরানোর পর দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয় ছোট যমুনা নদীতে।
এ সময় বাজে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনি। ‘জয়, দুর্গা মায়ের জয়’ বলে নারীরা উলুধ্বনি দেন। শাস্ত্রমতে, শনিবারই নবমীর লগ্ন শেষ হওয়ার পর দশমীর লগ্ন শুরু হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা সেদিন শেষ হলেও বিসর্জন দেওয়া হয় রোববার। দেবী দুর্গা এবার এসেছিলেন দোলায় চড়ে। আর মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামী মহাদেবের কাছে ফিরেছেন ঘোড়ায়।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































