অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, আমন্ত্রণ :
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে রোববার (৪ অক্টোবর) ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন খনিশ্রমিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলনরত আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮৭ জন খনিশ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সকাল ১১ টা থেকে খনির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় প্রায় প্রত্যেকের হাতে দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফ্যাস্টুনসহ প্লাকার্ড হাতে ছিল।
এ সময় দাবির সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. তোফায়েল হোসেন, মো. লিয়াকত আলী, মো. ফরহাদ হোসেন, ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, শ্রমিক কর্মচারী মো. মাহাবুব হোসেন, ১৩ গ্রামের আহŸায়ক মো. গোলাম মোস্তফা,পাবর্তীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক মো. আমিনুল ইসলাম, শ্রমিক মো. এরশাদ, হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজওয়ানুল হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে নিয়োগ সম্পন্ন না করে রহস্যজনক কারণে নিজস্ব পছন্দের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের আইনগত ও ন্যায় সংগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তারা বলেন, উচ্চ আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। এতে কয়লাখনির উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আউটসোর্সিং হিসেবে নিয়োজিত হয়ে কর্মরত কর্মচারী তোফায়েল হোসেন বলেন, তারা আউট সোসিংয়ের মাধ্যমে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে নিয়োজিত হয়ে দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন। আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকায় তারা চাকরির সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খনির কারণে তাদের বাসাবাড়ি বসতভিটামাটি ও ফসলি জমি অধিগ্রহণ করায় তারা এলাকা ছাড়া হয়েছেন। ইতোপূর্বে খনিএলাকার মানুষের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী খনিতে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়োগ নীতিমালা শিথিল করে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়োগের প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই সমঝোতা ভঙ্গ করে অদ্যবাদী ক্ষতিগ্রস্তদের কাউকে চাকরি দিচ্ছে না।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মহাব্যবস্থাপক (জিএম-প্রশাসক) মো. সানা উল্লাহ বলেন, আদালতের রায়ের আলোকে নিয়েগের ব্যাপারে শতভাগ নিরপেক্ষতা এবং সততার সাথে কাজ হচ্ছে। এখানে কোন স্বজনপ্রীতি বা অন্য কোনকিছু করার সুযোগ নেই। যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাই মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন আদালতের রায় অনুযায়ী তারাই নিয়োগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, চাকরির দাবিতে মানববন্ধন করছেন, তারা একজনও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তাদেরকে উত্তীর্ণ করে দেওয়ার দায়িত্ব তো কর্তৃপক্ষের না।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) অধীনস্থ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৭জন কর্মচারি নিয়োজিত রয়েছেন।
আমন্ত্রণ/এজি
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিং কর্মচারিদের বিক্ষোভসহ মানববন্ধন
অক্টোবর ৪, ২০২৬
































