আরটিপিসিআর মেশিন সচল থাকলেও চালানোর লোকবল নেই
বগুড়া ব্যুরো :
দেশে আবারো নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বগুড়ায় করোনা পরিস্থিতি আপাতত: ভালো রয়েছে। এখনো করোনা শনাক্ত হয়নি। বগুড়ার সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বগুড়ায় কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি।
এদিকে বগুড়া শহরের দুটি সরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে করোনার জন্য ৫০ শয্যার বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগীদের জন্য ১০টি আইসিইউ শয্যা এবং ৪০টি সাধারণ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৬টি আইসিইউ এবং ৪টি সাধারণ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া শজিমেক হাসপাতালের জন্য ৫ হাজার এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জন্য ৫ হাজার কীটের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. মো. মজিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে কোভিডের সময় ওই হাসপাতালকে করোনার জন্য বিশেষায়িত করা হয়েছিলো। সে সময় করোনায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ১০ শয্যার যে আইসিইউ কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিলো, এবারও ওই কক্ষকেই করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওই কক্ষে ১০টি শয্যার মধ্যে ৬টি আইসিইউ এবং ৪টি সাধারণ শয্যা। যদি রোগী বাড়ে সেক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রোগীদের শনাক্ত করার জন্য ৫ হাজার কীটের চাহিদা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৫০ শয্যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ১০টি আইসিইউ এবং ৪০টি সাধারণ শয্যা।
শজিমেকের অধ্যক্ষ ডা. ওয়াদুদুর রহমান তরফদার নাহিদ জানান, করোনা শনাক্তের জন্য বর্তমানে কলেজের ল্যাবে মাত্র ২৫টি কীট রয়েছে। আরটিপিসিআর মেশিন সচল থাকলেও মেশিন চালানোর লোকবল নেই। ৫ বছর আগে করোনার সময় যারা অস্থায়ীভাবে যারা কাজ করতেন তারা এখন নেই। কেউ তো জানতো না যে আবারো করোনা ফিরে আসবে। তবে বুধবার আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে জুম মিটিং করেছি। আমাদের জরুরী ভিত্তিতে কীট কিনতে বলা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে লোকবল ও ৫ হাজার কীট চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, জেলার কোথাও এখনও কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। জেলা থেকে উপজেলা সব হাসপাতালে করোনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এখনই আমাদের আতংকিত হওয়ার মত কিছু হয়নি। যেহেতু করোনার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতি : বগুড়ায় করোনা পরীক্ষার কীট আছে মাত্র ২৫টি ১০ হাজার কীট ও লোকবল চেয়ে চিঠি
জুন ১৩, ২০২৫
































