প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া :
কোরবানির ঈদ এলেই যে জিনিসটার সবচে বেশি প্রয়োজন তা হলে মাংস কাটার খাটিয়ার। আজ বাদে কাল ঈদ। এজন্য বগুড়ায় এখন মাংস কাটার খাটিয়ার কদর বেড়ে গেছে। দা, ছুরির পাশাপাশি মাংস কাটার কাঠের গুঁড়ির (খাইট্টা) চাহিদা বেড়েছে। শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন ব্যস্ত সময় পার করছেন খাটিয়া ব্যবসায়ীরা। এসব দোকানে থরে থরে সাজানো খাটিয়া। গাছের গোড়ার দিকের কাঠ কেটে বানানো গোলাকার এসব খাটিয়া কিনতে ছুটছেন মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বগুড়া শহরের কলোনি, খান্দার, চার মাথা মোড়, মাটিডালি, ফতেহ আলী, রেলগেট, কাঠালতলা মোড়. কালিতলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে মাংস কাটার খাটিয়া বিক্রির দৃশ্য নজরে পড়ে। কোরবানি ঈদের সময়ে এই খাটিয়ার কদর বহুগুণ বেড়ে গেছে। আলম শেখ, নজরুল ইসলাম, আবদুল মোমিন নামের বেশ কয়েক খাটিয়ার দোকানদার জানান, তারা মৌসুমি ব্যবসায়ী। প্রত্যেক বছরই কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তারা এ ব্যবসায় নামেন।
তারা জানান, ঈদের আগে বিভিন্ন স মিল ঘুরে ঘুরে কাজে লাগে না এমন ছোট ছোট কাঠের গুড়ি কিনেন তারা। তেঁতুল গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত। এরপর কড়ি গাছের গুলকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। গুল সংগ্রহের পর সেগুলোকে মাংস কাটার উপযোগী করে নির্দিষ্ট মাপে কেটে খাটিয়া তৈরি করা হয়। সুন্দরভাবে কেটে সমতল করা হয় খাটিয়ার ওপরের ও নিচের অংশ। তেতুল বাদে অন্য গাছের খাটিয়া দা বা ছুরির আঘাত তেমন একটা সহ্য করতে পারে না বলে জানায় তারা। সেগুলো থেকে কাঠের টুকরো মাংসে আটকে যায়। পরে তা মাংস থেকে ছাড়াতে বেশ কষ্ট হয়।
মৌসুমি এ ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে খাটিয়া। প্রতি কেজি ৩০ টাকা। এরমধ্য তেতুঁল গাছের খাটিয়া ৩০ টাকা এবং বেল গাছের খাটিয়া ৩৫ টাকা কেজি। সে হিসেবে আকার ভেদে প্রতি পিস খাটিয়ার দাম ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।
আবু নাসের, ইমরান শেখ, বজলুর রহমান, জামিল হোসেন, ছামছুল মিয়াসহ বেশ কয়েক ক্রেতা জানান, কোরবানির দিন মানুষের ব্যস্ততা অনেক বেশি থাকে। সকালে নামাজ পড়েই পশু কোরবানি দেওয়ায় মনোযোগ দিতে হয়। সে পশুর মাংস কাটাকাটি করতে দা, ছুরি, চাকু যেমন প্রয়োজন তেমনি খাটিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগেভাগেই খাটিয়া সংগ্রহ করছেন তারা।
বগুড়া সদর উপজেলার ধরমপুর থেকে খাইটা কিনতে আসা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আজকাল তেঁতুল কাঠের খাইট্টা পাওয়া খুব কঠিন। দোকানদার আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। তাই এখান থেকে একটি মাঝারি ধরনের খাইট্টা কিনলাম। এটি মাংস কাটার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।’
শহরতলীর মাটিডালিতে দোকান দেয়া রহমত মিয়ার কাছে বিক্রি কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবছর খাইট্টা বিক্রি করি। তবে তেঁতুল কাঠ সহজে পাওয়া যায় না। এ মৌসুমে আমি ৩০০ পিস খাইট্টা তৈরি করে রেখেছি। শুধু লাভের আশায় নয়, কোরবানি ঈদে মানুষের চাহিদা মেটাতে কাঠ ব্যবসায়ী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
আমন্ত্রণ/এসিজি


































