রফিকুল ইসলাম ফুলাল, দিনাজপুর :
অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পুলিশের এসআই (নি.) পদে চাকরিতে যোগদানের সুযোগ চেয়ে দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন করলেন জেলা কোঠা বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্র্থী মো. মোকাররম হোসেন বাবু।
আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে উপরোক্ত দাবী জানান, সদরের পৌরসভাধীন দক্ষিন মুন্সিপাড়া গ্রামের মো: আজিজার রহমানের ছেলে মো. মোকাররম হোসেন বাবু।
এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৯ সালের এসআই (নিঃ) পদে নিয়োগের জন্য জেলা সাধারণ কোটায় লিখিত পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত লিখিত পরীক্ষায় আমি কৃতকার্য হয়েছিলাম। এরপরে ৩০/০৯/১৯৯৯ ইং তারিখে (চাকুরির স্মারক নং- আরএন্ডএম/৪০-৮/১৪২৯)‘র আলোকে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম অডিটরিয়ামে আমার মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, সেই মৌখিক পরীক্ষাতেও আমি উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম নাসিমের গ্রামের গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায় হওয়ায় তার ব্যক্তিগত ইচ্ছের কারণেই শেষ অবধি আমার চাকরি আর হয়নি। ক্ষমতার দাপটে তিনি উক্ত পদের চাকরিতে তার জেলা সিরাজগঞ্জের লোক নিয়োগ করেন, বৈষ্যমের শিকার হয়ে যাই আমি।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুর্নীতি এখানে স্পষ্ট হয়েছে যে, তৎকালীন আমলে কোঠার বৈষম্য হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে লেখা হয়েছিল যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোঠা পূরন করা হবে। কিন্তু তৎকালীন প্রয়াত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নাসিম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে তার নিজ সিরাজগঞ্জ জেলার লোককে নিয়োগ দিয়েছিল। অথচ উক্ত এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় দিনাজপুরে টিকেছিল মোট ১১ জন। তম্মধ্যে চাকুরী হয়েছে মাত্র ০২ জনের এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় টিকেছিল ৭ জন তন্মধ্যে চাকুরী হয়েছে ৬ জনের। এ থেকেই বুঝা যায় আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সরকারের এমপি মন্ত্রীরা কি পরিমানে দূর্নীতি সংঘটিত করেছিল। সেই সময় রাজনৈতিক কারণে আমি এবং আমাকে ভাইভায় প্রথম হওয়া সত্তে¡ও আমাকে ভাইভায় তৃতীয় করে দেওয়া হইল। দিনাজপুর জেলার কোটার ভিত্তিতে দিনাজপুর জেলায় মোট থানা ১৩ টি এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট থানা ৭ টি। নিয়োগটি যেহেতু হয়েছিল জনসংখ্যার ভিত্তিতে সেই হিসাবে নিয়োগ বেশি হওয়ার কথা দিনাজপুর জেলায় কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গির কারনে দিনাজপুর জেলায় ০২ জন এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় ০৬ জন নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। সেই সময় আমার চাকুরী না হওয়ার কারনে আমি হাইকোর্টে রিট করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু হাইকোটে রিট করতে গিয়েও আমি চরম অপমানিত হই। এমনকি আমি যেই উকিলকে ধরেছিলাম রিট করার জন্য তৎকালীন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকার আমাকে ও আমার আইনজীবীকে জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেছিল। যেহেতু জনসংখ্যার ভিত্তিটে কোটা নির্ধারণ করা হবে, সেটি হিসাব করলে দেখা যানে যে. সিরাজগঞ্জ জেলার চেয়েও দিনাজপুর জেলায় নিয়োগ দ্বিগুণ হওয়ার কথা। কিন্তু সেই সময় আমার শতভাগ হওয়া চাকুরিটি ফ্যাসিষ্ট ও স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের দূর্নীতি পরায়ণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম নাসিমের কারণে হয়নি।
আমার এই সংবাদ সম্মেলনের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে উক্ত এসআই পরীক্ষার নিয়োগে আমি লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার পরেও আমার চাকুরিটি কেন হলো না তা তদন্ত হোক। সেইসাথে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস স্যারের নিকট আমার দাবী আমার জেলা দিনাজপুর এবং আমার সাথে ঘটে যাওয়া ওই অন্যায় অবিচারের একটি সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং অপরাধিদের শাস্তি দেয়া হবে ও আমাকে উক্ত চাকুরিতে যোগদানের সুযোগ দেয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
আওয়ামীলীগ সরকারের ফ্যাসিবাদি ও স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে জেলা কোঠা বৈষম্যের শিকার চাকরি প্রার্থী বাবুর সংবাদ সম্মেলন
নভেম্বর ২৩, ২০২৪


































